হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, রাসুল (সা.) উল্কি অঙ্কনকারী ও উল্কি করানো ব্যক্তিদের প্রতি সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছেন। সহিহ বুখারির একটি হাদিসে এসেছে, “আল্লাহ ওইসব নারীকে লানত করেছেন, যারা উল্কি অঙ্কন করে বা করায়, যারা সৌন্দর্যের জন্য ভ্রূ উপড়ে ফেলে এবং দাঁতের মাঝে ফাঁক সৃষ্টি করে। তারা আল্লাহর সৃষ্টিতে পরিবর্তন ঘটায়।”
ইসলামী বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্যাটু যদি এমনভাবে আঁকা হয়, যাতে শরীরের চামড়ায় পানি পৌঁছাতে বাধা সৃষ্টি হয়, তাহলে ওজু ও গোসল শুদ্ধ হবে না। আর ওজু বা গোসল শুদ্ধ না হলে নামাজও আদায় হবে না।
তবে ট্যাটু তুলে ফেলা যদি অত্যন্ত কঠিন, ব্যয়বহুল বা ঝুঁকিপূর্ণ হয়, তাহলে সেই ব্যক্তি ট্যাটু অপসারণের চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি নামাজ আদায় অব্যাহত রাখতে পারবেন।
ইসলামে সৌন্দর্যচর্চা বৈধ হলেও সেটি হতে হবে স্বাভাবিক ও সীমার মধ্যে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা, সুন্দর পোশাক পরা এবং পরিপাটি জীবনযাপনকে ইসলাম উৎসাহিত করেছে। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, “হে আদম সন্তান! প্রত্যেক নামাজের সময় তোমরা সাজসজ্জা গ্রহণ করো, খাও এবং পান করো; তবে অপচয় করো না।” (সুরা আ’রাফ: ৩১)
এ ছাড়া সহিহ মুসলিমের একটি হাদিসে রাসুল (সা.) বলেছেন, “আল্লাহ সুন্দর এবং তিনি সৌন্দর্যকে পছন্দ করেন।” তবে অহংকার ও আল্লাহর সৃষ্টিতে বিকৃতি ঘটানো থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।
ধর্মীয় বিশ্লেষকদের মতে, ইসলাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য রক্ষার প্রতি গুরুত্ব দেয়। তাই শরীরে স্থায়ীভাবে উল্কি আঁকা বা ট্যাটু করানোকে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে।
সিএ/এমআর


