সাইবার অপরাধ, আর্থিক জালিয়াতি এবং নগর নিরাপত্তা মোকাবিলায় দেশে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক পুলিশিং ব্যবস্থার ব্যবহার দ্রুত বাড়ানো হচ্ছে। আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যক্রম আরও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি রাজধানীতে আধুনিক পুলিশিং ব্যবস্থার অংশ হিসেবে নতুন ডিজিটাল প্রযুক্তি চালু করা হয়েছে। এসব প্রযুক্তির মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় উন্নত ভিডিও বিশ্লেষণ ব্যবহার করে তাৎক্ষণিকভাবে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে। একই সঙ্গে স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রমাণ সংগ্রহ ও ই-প্রসিকিউশন পরিচালনা করা যাচ্ছে।
স্মার্ট সিসিটিভি ক্যামেরায় এখন এআই ব্যবহার করে সন্দেহজনক চলাফেরা, পরিত্যক্ত বস্তু ও সম্ভাব্য হুমকি শনাক্ত করা হচ্ছে। উন্নত শনাক্তকরণ প্রযুক্তির মাধ্যমে সহিংস আচরণ বা অস্ত্রও চিহ্নিত করা সম্ভব হচ্ছে। এছাড়া সেন্সর প্রযুক্তির সাহায্যে গুলির শব্দ শনাক্ত করে দ্রুত অবস্থান নির্ধারণ করা যাচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, অপরাধের ধরন দিন দিন প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে উঠছে। তাই সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পুলিশিং ব্যবস্থায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো জরুরি হয়ে পড়েছে।
এদিকে এআই ব্যবহার করে ডিপফেক কনটেন্ট ও জাল নথি তৈরির অভিযোগে সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। এসব অপরাধ দমনে নতুন আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে, যেখানে দোষী প্রমাণিত হলে কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।
জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মও চালু করা হয়েছে, যার মাধ্যমে নাগরিকরা সহজে অভিযোগ জানাতে পারছেন। এতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় জনগণের অংশগ্রহণও বাড়ছে।
তবে এআইভিত্তিক নজরদারি ব্যবস্থার বিস্তার নিয়ে গোপনীয়তা ও মানবাধিকার সংশ্লিষ্ট কিছু উদ্বেগও রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং নৈতিক ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
সূত্র: বাসস
সিএ/এমআর


