ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলায় কাজ শেষ হওয়ার আগেই উপজেলা পরিষদের পুকুরপাড় ও ওয়াকওয়ের একটি অংশ ধসে পড়েছে। টানা ভারি বৃষ্টির কারণে শনিবার (২ মে) থেকে রবিবার (৩ মে)-এর মধ্যে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
উপজেলা প্রকৌশল অফিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাজস্ব তহবিলের আওতায় ভালুকা উপজেলা পরিষদের পুকুর সংস্কারের কাজ চলছিল। এ প্রকল্পের আওতায় পুকুরে মাটি ভরাট, জিও ক্লথ ও সিসি ব্লক দিয়ে পাড় বাঁধাই, পাশাপাশি ওয়াকওয়ে ও ড্রেন নির্মাণের কাজ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
মেসার্স ফুয়াদ এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ৯১ লাখ ৭৬ হাজার টাকা ব্যয়ে কাজটি বাস্তবায়ন করছে। গত বছরের ২৭ আগস্ট শুরু হওয়া এ প্রকল্প আগামী ২৬ মে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। ইতোমধ্যে পুকুরপাড়ে মাটি ভরাট ও জিও ক্লথের ওপর সিসি ব্লক বসিয়ে প্রায় ৪০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
তবে কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে পুকুরের দক্ষিণ পাড়ে ভরাট করা মাটি, জিও ক্লথ ও সিসি ব্লক ধসে পড়ে। জিও ক্লথ ও সিসি ব্লক বসানোর আগেই বৃষ্টির পানিতে পাড়ের বেশির ভাগ মাটি পুকুরে ভেসে গেছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বৃষ্টির পানির চাপ সামাল দেওয়ার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়া এবং জিও ব্যাগ ব্যবহার না করায় এই ধসের ঘটনা ঘটেছে। পরিকল্পনার ঘাটতিকে এর জন্য দায়ী করছেন তারা।
এ বিষয়ে সংস্কারকাজ তদারকির দায়িত্বে থাকা উপসহকারী প্রকৌশলী মো. শওকত হোসেন বলেন, পুকুরপাড়ের পাশে আগে থেকেই একটি প্যালাসাইডিং প্রতিরক্ষা প্রাচীর ছিল। নতুন করে সেটি নির্মাণ করা হয়নি। প্রবল বৃষ্টির কারণে আগের প্যালাসাইডিং ওয়াল দুর্বল হয়ে পড়ায় পুকুরপাড়ের ভরাট করা অংশ ধসে গেছে।
কাজটির সাবকন্ট্রাক্টর রকিবুল হাসান রাসেল বলেন, উপজেলা প্রকৌশল অফিসের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ পরিচালিত হচ্ছে। তাদের নির্দেশনার বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই।
উপজেলা প্রকৌশলী আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, কয়েক দিনের ভারি বৃষ্টির কারণে এ ধসের ঘটনা ঘটেছে। এখানে কাজের পরিকল্পনায় কোনো ত্রুটি নেই। আপাতত বৃষ্টির কারণে কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পুনরায় কাজ শুরু করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফিরোজ হোসেন বলেন, পুকুর সংস্কারের কাজ এখনো শেষ হয়নি। প্রাকৃতিক কারণে ধস হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত অংশ পুনরায় সংস্কার করা হবে।
সিএ/এমই


