ইসলামি জীবনব্যবস্থায় মিতব্যয়িতা একটি গুরুত্বপূর্ণ গুণ, যা কেবল অর্থ সঞ্চয়ের উপায় নয়, বরং জীবনযাপনের একটি সুশৃঙ্খল পদ্ধতি। মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি মিতব্যয়ী হয়, সে কখনো অভাবগ্রস্ত হয় না।’ (মুসনাদে আহমদ, হাদিস: ৪২৬৯; আল-মুজামুল কবির, তাবারানি, হাদিস: ১০১১৮)
এই বক্তব্যে মানুষের অর্থনৈতিক ভারসাম্য রক্ষার একটি মৌলিক দিক তুলে ধরা হয়েছে। মিতব্যয়িতা বলতে কৃপণতা বা অপচয় কোনোটিই বোঝায় না; বরং ব্যয়ের ক্ষেত্রে মধ্যপন্থা অবলম্বন করাকেই বোঝানো হয়েছে।
ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, মিতব্যয়িতা মানে হলো প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যয় করা এবং অপ্রয়োজনীয় খরচ থেকে বিরত থাকা। একই সঙ্গে পরিবারের অধিকার আদায়ে কৃপণতা না করা এবং আল্লাহর অবাধ্যতার কাজে ব্যয় না করাও এর অংশ।
পবিত্র কোরআনে ব্যয়ের ভারসাম্য বজায় রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ‘তুমি তোমার হাত তোমার ঘাড়ের সঙ্গে শিকলবদ্ধ করে রেখো না (কৃপণতা করো না) এবং তা একেবারে প্রসারিতও করে দিয়ো না (অপচয় করো না); তেমন করলে তুমি তিরস্কৃত ও নিঃস্ব হয়ে বসে থাকবে।’ (সুরা ইসরা, আয়াত: ২৯)
এছাড়া আল্লাহ–তাআলা তাঁর প্রিয় বান্দাদের বৈশিষ্ট্য হিসেবে উল্লেখ করেছেন, তারা ব্যয়ের ক্ষেত্রে অপচয় ও কার্পণ্য উভয়ই পরিহার করে এবং মধ্যপন্থা অনুসরণ করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মিতব্যয়িতা মানুষের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনে স্থিতিশীলতা আনে। পরিকল্পিত ব্যয় মানুষকে অন্যের ওপর নির্ভরশীল হওয়া থেকে রক্ষা করে এবং আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।
বর্তমান ভোগবাদী সমাজে এই শিক্ষা আরও তাৎপর্যপূর্ণ। মিতব্যয়িতা শুধু অর্থ সঞ্চয়ের বিষয় নয়; এটি আত্মনিয়ন্ত্রণ, প্রজ্ঞা এবং ভারসাম্যপূর্ণ জীবনের প্রতিফলন।
সিএ/এমআর


