বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলায় ভারী বৃষ্টির পর আউশ ধানের বীজতলা তৈরিতে ব্যস্ত হয়ে উঠেছেন কৃষকরা। সাম্প্রতিক বৃষ্টিপাতে আমন ধানের ক্ষতির আশঙ্কা থাকলেও বীজতলা তৈরির সুযোগ তৈরি হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে নতুন আশার সঞ্চার।
উপজেলার পাইকপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে দেখা গেছে, মাঠজুড়ে চলছে বীজতলা প্রস্তুতের কাজ। কৃষকরা জমি প্রস্তুত করে আউশ ধানের বীজ বপনে ব্যস্ত সময় পার করছেন। বৃষ্টির পানিতে জমি উপযোগী হওয়ায় বীজতলার চারাগুলোও ধীরে ধীরে সতেজ হয়ে উঠছে।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, আউশ ধানের বীজতলা তৈরিতে কৃষকদের প্রণোদনা দেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের কারিগরি সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। এ বছর উপজেলায় চার শতাধিক কৃষক বীজতলা তৈরি করছেন। এর মধ্যে ৩০০ জন কৃষককে প্রণোদনার আওতায় আনা হয়েছে।
কৃষি অফিস সূত্র জানায়, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ২১০ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে বাস্তবে এর চেয়েও বেশি জমিতে বীজতলা তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
কৃষক একিম মল্লিকসহ স্থানীয় কয়েকজন জানান, মৌসুমের শুরুতে তীব্র তাপপ্রবাহে জমি শুকিয়ে যাওয়ায় বীজতলা তৈরি করা সম্ভব হয়নি। তবে সাম্প্রতিক বৃষ্টির ফলে জমিতে আর্দ্রতা ফিরে আসায় তারা বীজতলা তৈরি করতে পেরেছেন এবং চারাগাছগুলো ভালোভাবে বেড়ে উঠছে।
উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা জানান, নিয়মিতভাবে বীজতলা পরিদর্শন করা হচ্ছে এবং কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। মাঠপর্যায়ে কৃষকদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে সার্বিক সহায়তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
ফকিরহাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শেখ শাখাওয়াত হোসেন বলেন, নতুন করে অতিবৃষ্টি না হলে আমন ধানের ক্ষতির সম্ভাবনা নেই। কিছুদিন বৃষ্টি না থাকায় কৃষকদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, তবে এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে এবং কৃষকরা স্বস্তি পাচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, প্রণোদনার আওতায় ৩০০ কৃষককে পাঁচ কেজি করে বীজ, ১০ কেজি ডিএপি সার এবং পাঁচ কেজি করে পটাশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত পরামর্শ দিচ্ছেন। চলতি মৌসুমে আউশ ধানের চাষাবাদে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সিএ/এমই


