লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) দীর্ঘদিন ধরে তীব্র জনবল সংকটে পরিচালিত হচ্ছে। প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারী না থাকায় প্রশাসনিক কাজের পাশাপাশি চলমান উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নেও দেখা দিয়েছে ধীরগতি ও জটিলতা।
উপজেলা এলজিইডি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এখানে অনুমোদিত মোট পদের সংখ্যা ২১টি হলেও বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ১১ জন। এর মধ্যে উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল কাদের মুজাহিদের বদলির আদেশ কার্যকর হওয়ায় পরিস্থিতি আরও সংকটাপন্ন হয়ে উঠেছে। ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই দপ্তরটি কার্যত অর্ধেক জনবল দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে।
তথ্য অনুযায়ী, একজন প্রকৌশলী, একজন সহকারী প্রকৌশলী ও চারজন উপসহকারী প্রকৌশলীর পদ থাকলেও বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র একজন। একইভাবে হিসাবরক্ষক, হিসাব সহকারী, কম্পিউটার অপারেটর ও সার্ভেয়ার—প্রতিটি পদেই শূন্যতা রয়েছে। কার্যসহকারী পাঁচজনের স্থলে আছেন মাত্র দুইজন। এছাড়া অফিস সহায়ক, অফিস সহকারী ও নিরাপত্তাকর্মীর পদেও নেই কোনো নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তি।
এ অবস্থায় দপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ কাজ যেমন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন, তদারকি ও প্রশাসনিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। সীমিত জনবল দিয়ে বিপুল পরিমাণ কাজ সামাল দিতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে সংশ্লিষ্টদের। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ সেবাপ্রত্যাশী মানুষ, ঠিকাদার ও জনপ্রতিনিধিদের ওপর।
কার্যালয়ের কর্মচারীরা জানিয়েছেন, একদিকে চলমান প্রকল্প তদারকি, অন্যদিকে নতুন প্রকল্পের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের চাপ—সব মিলিয়ে কাজের গতি কমে গেছে। বিশেষ করে গ্রামীণ সড়ক, সেতু ও কালভার্ট নির্মাণ এবং সংস্কারকাজে মান নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা ও নির্ধারিত সময়ে প্রকল্প শেষ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
মাঠ পর্যায়ে নিয়মিত তদারকির অভাবের কারণে অনেক ক্ষেত্রে কাজের মান নিয়েও প্রশ্ন উঠছে বলে জানা গেছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বলছেন, পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় উন্নয়ন কার্যক্রম কাঙ্ক্ষিত গতিতে এগোচ্ছে না, যা সরকারের সামগ্রিক উন্নয়ন পরিকল্পনায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
সেবাপ্রত্যাশী মো. আবুল হোসেন ও রায়হান সিদ্দিক জানান, ছোটখাটো কাজের জন্যও বারবার অফিসে যেতে হচ্ছে। অতিরিক্ত কাজের চাপের কারণে অনেক আবেদন ও ফাইল নিষ্পত্তিতে দেরি হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুইজন কর্মচারী বলেন, জনবল সংকটের কারণে অফিসের কার্যক্রম প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। ঠিকাদাররা বিল পাওয়ার জন্য দিনের পর দিন অপেক্ষা করছেন। একইভাবে গণমাধ্যমকর্মীরাও বিজ্ঞাপন বিল পেতে ভোগান্তিতে পড়ছেন। মাঠ পর্যায়ের কাজ সঠিকভাবে তদারকি করা সম্ভব হচ্ছে না বলেও তারা জানান।
ঠিকাদার গোফরান হোসেন বলেন, জনবল সংকটের কারণে বিল নিষ্পত্তিতে দেরি হচ্ছে। ফলে কাজ শেষ করতেও বিলম্ব হচ্ছে, এতে সবার দুর্ভোগ বাড়ছে এবং উন্নয়ন কার্যক্রমের গতি কমে যাচ্ছে।
কমলনগর উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল কাদের মুজাহিদ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে জনবলসংকট রয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার জানানো হয়েছে। শূন্য পদগুলোতে জনবল নিয়োগ হলে অফিসের কার্যক্রমে গতি ফিরবে।
লক্ষ্মীপুর জেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী উজ্জ্বল চৌধুরী বলেন, জনবল সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং তারা সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন।
সিএ/এমই


