অর্থাভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি ও পড়াশোনা থমকে যাওয়ার শঙ্কায় থাকা কুষ্টিয়ার কুমারখালীর মেধাবী তরুণ ওমর ওসমান রাজুর পাশে দাঁড়িয়েছে বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান। তার উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন বাস্তবায়নে সহায়তা হিসেবে বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সকালে রাজুর হাতে ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকার চেক তুলে দিয়েছে স্বপ্ন সুপার শপ পরিবার। একই দিন দুপুরে আলাউদ্দিন আহমেদ ফাউন্ডেশন তার জন্য মাসিক ৫ হাজার টাকার শিক্ষাবৃত্তির ঘোষণা দেয়।
কুমারখালীর সদকী ইউনিয়নের মহিষাখোলা গ্রামের মৃত খবির উদ্দিন ও গৃহিণী ফাতেমা খাতুনের বড় ছেলে রাজু ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে গুচ্ছ, জাহাঙ্গীরনগর ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। আর্থিক সংকটের কারণে তার পড়াশোনা অনিশ্চয়তার মুখে পড়লে বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়, এরপরই বিভিন্ন মহল থেকে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়া শুরু হয়।
বৃহস্পতিবার সকালে রাজুর বাড়িতে দেখা যায়, স্বপ্ন সুপার শপের দেওয়া চেক হাতে নিয়ে মা-ছেলে আবেগাপ্লুত হয়ে বসে আছেন। আনন্দাশ্রুসিক্ত ফাতেমা খাতুন বলেন, ‘সংসারে ইনকামের লোক নেই। কাপড়চোপড়, বই-খাতা, খেতে দিতে পারি না। কত করে বলেছি– তুই পড়িস নে। ও বলে, তাও পড়ব। এসব কথা খবরে উঠলে অনেকেই ফোন দিচ্ছে। স্বপ্নওয়ালারা সাড়ে তিন লাখ টাকার চেক দিছে। আলাউদ্দিন স্যার ফোন দিছেন। এখন খুব খুশি। সবাই আমার রাজুর জন্য দোয়া করবেন।’
স্বপ্ন সুপার শপের আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক রাসেল আল মামুন জানান, গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাজুর সংগ্রামের গল্প নজরে আসার পর প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে তার পড়াশোনার সহায়তায় এ অর্থ প্রদান করা হয়েছে।
আলাউদ্দিন আহমেদ ফাউন্ডেশনের সভাপতি মো. মুরাদ হোসেন বলেন, সংবাদ দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে রাজুকে মাসিক ৫ হাজার টাকা শিক্ষাবৃত্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রথম মাসের অর্থ তার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে এবং পরবর্তী অর্থ ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে প্রদান করা হবে।
এ ছাড়া বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান থেকেও রাজুর বিকাশ নম্বরে প্রায় ২১ হাজার টাকা সহায়তা এসেছে। অনেকে তার বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির খরচ বহনের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন।
মানুষের এই সহমর্মিতায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে রাজু বলেন, ‘সংবাদ প্রচার হলে অসংখ্য মানুষ ফোনে সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন। স্বপ্ন সুপারশপ থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকার চেক ও আলাউদ্দিন আহমেদ ফাউন্ডেশন থেকে প্রতি মাসে পাঁচ হাজার টাকার বৃত্তি দিয়েছে। এখন আর টাকার সমস্যা নেই। পড়াশোনা করে মানুষ হওয়ার স্বপ্ন বেঁচে রইল।’
সিএ/এএ


