ইসলাম ধর্মে সুস্থতা রক্ষায় আগাম সতর্কতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। রোগ ও সুস্থতা উভয়ই আল্লাহর পক্ষ থেকে আসে, তবে অসুস্থ হওয়ার আগে স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সচেতন থাকা ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা।
হজরত রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘অসুস্থ হওয়ার আগে স্বাস্থ্যের প্রতি যত্নবান হও।’
চিকিৎসকদের মতে, রোগ হওয়ার পর চিকিৎসার চেয়ে রোগ প্রতিরোধই উত্তম। এইডস এমন একটি রোগ, যার কার্যকর প্রতিকার এখনো আবিষ্কৃত হয়নি। ফলে প্রতিরোধই এর একমাত্র উপায়।
ইসলামে যেসব কাজ নিষিদ্ধ করা হয়েছে, তার অনেকগুলোর সঙ্গে রোগ বিস্তারের সম্পর্ক রয়েছে। অবাধ যৌনাচার, ব্যভিচার এবং নৈতিক অবক্ষয় থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা এই ধরনের রোগ প্রতিরোধে সহায়ক হিসেবে বিবেচিত হয়।
পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে,
তোমরা ব্যভিচারের নিকটবর্তী হয়ো না। কেননা তা অত্যন্ত অশ্লীল ও মন্দ পথ। (সুরা বনি ইসরাইল ৩২)
এছাড়া মাদকদ্রব্য গ্রহণ ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। চিকিৎসা বিজ্ঞানের মতে, একই সিরিঞ্জ ব্যবহার করে মাদক গ্রহণ এইডস ছড়ানোর অন্যতম কারণ। এ বিষয়ে হাদিসে এসেছে, ‘সব নেশাজাত দ্রব্যই মাদক এবং সব নেশাজাত দ্রব্যই হারাম।’ (মুসলিম)
ইসলামের অনুশাসন মেনে চললে মানুষ শুধু নৈতিক অবক্ষয় থেকেই নয়, বরং নানা রোগ থেকেও সুরক্ষিত থাকতে পারে। তাই ছোটবেলা থেকেই সন্তানদের ধর্মীয় মূল্যবোধে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
রোগে আক্রান্ত হলে চিকিৎসা গ্রহণের কথাও ইসলাম উৎসাহিত করে। রোগ অনুযায়ী চিকিৎসা করলে আল্লাহর হুকুমে আরোগ্য লাভ সম্ভব। (সহিহ মুসলিম: ৫৬৯৭)
সিএ/এমআর


