মানুষের জীবনে শয়তান একটি চিরন্তন বিভ্রান্তির উৎস হিসেবে বিবেচিত। দুনিয়ার জীবনে সে নানা প্রলোভনের মাধ্যমে মানুষকে পথভ্রষ্ট করে। তবে পরকালের বিচারের দিনে এই শয়তানই তার অনুসারীদের দায় অস্বীকার করবে—এমন চিত্র কোরআনের আয়াতে স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
দুনিয়ায় যারা শয়তানের প্ররোচনায় ভুল পথে পরিচালিত হয়, পরকালে তাদের অবস্থা হবে অত্যন্ত করুণ। সেদিন তারা নিজেদের পথভ্রষ্টতার জন্য শয়তান ও অন্যদের দায়ী করে ক্ষোভ প্রকাশ করবে। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘কাফেররা বলবে, হে আমাদের প্রতিপালক, যেসব জিন ও মানুষ আমাদের পথভ্রষ্ট করেছিল, তাদের আমাদের দেখিয়ে দিন; আমরা তাদের আমাদের পায়ের নিচে রাখব, যাতে তারা চরম লাঞ্ছিত হয়।’ (সুরা ফুসসিলাত, আয়াত: ২৯)
বিচার শেষে শয়তান তার অনুসারীদের উদ্দেশ্যে বলবে, ‘আল্লাহ তোমাদের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তা ছিল সত্য। আর আমি তোমাদের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, তা ভঙ্গ করেছি। তোমাদের ওপর আমার কোনো আধিপত্য ছিল না, আমি শুধু তোমাদের ডেকেছিলাম এবং তোমরা আমার ডাকে সাড়া দিয়েছিলে।’ (সুরা ইব্রাহিম, আয়াত: ২২)
এই বক্তব্যে স্পষ্ট হয় যে, শয়তান কাউকে জোর করে পথভ্রষ্ট করেনি, বরং মানুষ নিজ সিদ্ধান্তে তার অনুসরণ করেছে। তাই সে সেদিন আরও বলবে, ‘কাজেই তোমরা আমাকে তিরস্কার কোরো না, বরং নিজেদেরই তিরস্কার করো। আজ আমি তোমাদের কোনো উপকারে আসব না এবং তোমরাও আমার কোনো উপকারে আসবে না।’
ধর্মীয় ব্যাখ্যায় বলা হয়, এই আয়াতগুলো মানুষের জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করে। দুনিয়ায় সঠিক পথ অনুসরণ না করলে পরকালে অনুশোচনা ছাড়া আর কোনো পথ থাকবে না।
সিএ/এমআর


