জান্নাতে নারী ও পুরুষের সংখ্যা নিয়ে ইসলামি ইতিহাসে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা ও মতভেদ রয়েছে। সাহাবা যুগ থেকেই এ বিষয়ে বিভিন্ন বর্ণনা পাওয়া যায়, যা পরবর্তীতে আলেমদের মধ্যে ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সহিহ মুসলিমে ইবনে সিরিনের বর্ণনায় উল্লেখ আছে, একসময় নারী-পুরুষদের মধ্যে জান্নাতে কারা বেশি হবে—এ নিয়ে বিতর্ক দেখা দেয়। এ প্রসঙ্গে আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, নারীদের সংখ্যাই বেশি হবে। তিনি বলেন, জান্নাতে প্রথম প্রবেশকারী দলের চেহারা পূর্ণিমার চাঁদের মতো উজ্জ্বল হবে এবং পরবর্তী দল হবে উজ্জ্বল তারকার মতো।
প্রত্যেক পুরুষের দুজন করে স্ত্রী থাকবে—এমন বর্ণনাও হাদিসে এসেছে। এতে ধারণা করা হয়, জান্নাতে নারীর সংখ্যা তুলনামূলক বেশি হতে পারে।
অন্যদিকে কিছু আলেমের মতে, নারীদের সংখ্যা কম হতে পারে। তারা একটি হাদিসের উদ্ধৃতি দেন, যেখানে রাসুলুল্লাহ (সা.) নারীদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, ‘আমি তোমাদের অধিকাংশকেই জাহান্নামে দেখতে পেয়েছি।’ (বোখারি : ১৪৬২)।
এছাড়া আরেক বর্ণনায় বলা হয়েছে, জান্নাতে নারীরা হবে বিরল সাদা কাকের মতো—যা সংখ্যায় কম হওয়ার ইঙ্গিত দেয়।
তবে ইবনে হাজার আসকালানি (রহ.) এ বিষয়ে বলেন, জাহান্নামে নারীদের সংখ্যা বেশি হলেই জান্নাতে তাদের সংখ্যা কম হবে—এটি বাধ্যতামূলক নয়। তিনি ব্যাখ্যা করেন, উভয় স্থানেই নারীরা সংখ্যায় বেশি হতে পারেন।
ইমাম কুরতুবি (রহ.)-এর মতে, শুরুতে জাহান্নামে নারীদের সংখ্যা বেশি থাকলেও পরবর্তীতে সুপারিশের মাধ্যমে গুনাহগার মুমিনরা মুক্তি পেলে জান্নাতে নারীদের সংখ্যাই বেশি হয়ে যেতে পারে।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, দুনিয়ায় যারা দুর্বল ও অবহেলিত, জান্নাতে তারাই মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে থাকবে। বিভিন্ন হাদিসে উল্লেখ আছে, জান্নাতে প্রবেশকারীদের বড় অংশই হবে দরিদ্র ও বিনয়ী মানুষ।
সব মিলিয়ে, জান্নাতে নারী ও পুরুষের সুনির্দিষ্ট সংখ্যাগত অনুপাত নির্ধারণ না থাকলেও বিভিন্ন বর্ণনার ভিত্তিতে এ বিষয়ে ভিন্ন মত বিদ্যমান রয়েছে।
সিএ/এমআর


