রমজানের এক মাস সংযমের পর ঈদের সময়ে হঠাৎ ভারী ও তেল-ঝাল খাবার গ্রহণের ফলে নানা ধরনের শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সময় খাবারে অনিয়মের কারণে হজমজনিত সমস্যা থেকে শুরু করে দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ে।
চিকিৎসকদের মতে, অতিরিক্ত তেল-মসলাযুক্ত খাবার বা অতিরিক্ত পরিমাণে খাওয়ার ফলে পেট ফাঁপা, অ্যাসিডিটি ও গ্যাসের সমস্যা বেশি দেখা যায়। এসব সমস্যা এড়াতে রান্না ও খাওয়ার ক্ষেত্রে পরিমিতি বজায় রাখা জরুরি। খাবার ও পানীয় গ্রহণের মাঝেও কিছু সময় বিরতি রাখা ভালো।
এ ধরনের সমস্যা দেখা দিলে হালকা খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। ঘরে তৈরি জিরা পানি বা টক দইয়ের পানীয়ও আরাম দিতে পারে। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ গ্রহণ করা যেতে পারে।
ঈদের সময় আঁশযুক্ত খাবার কম খাওয়ার কারণে অনেকেই কোষ্ঠকাঠিন্যে ভোগেন। তাই খাদ্যতালিকায় শাকসবজি, ফলমূল এবং পর্যাপ্ত পানি রাখা প্রয়োজন। ফলের রসের পরিবর্তে সরাসরি ফল খেলে শরীর প্রয়োজনীয় আঁশ পায়।
খাবার প্রস্তুত ও পরিবেশনের ক্ষেত্রে অসচেতনতা থেকে বমি, ডায়রিয়া বা পেটব্যথার মতো সমস্যাও হতে পারে। এ জন্য পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, সঠিকভাবে রান্না করা এবং আধা সেদ্ধ খাবার এড়িয়ে চলা জরুরি। সমস্যা গুরুতর হলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
একই সঙ্গে ঈদের দীর্ঘ ছুটিতে অতিরিক্ত ক্যালরিযুক্ত খাবার গ্রহণ ও শারীরিক পরিশ্রম কমে যাওয়ায় ওজন বাড়ার ঝুঁকিও থাকে। তাই পরিমিত খাবার গ্রহণ, চিনি কম খাওয়া এবং কিছুটা শারীরিক পরিশ্রম বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
সিএ/এমআর


