ঈদকে সামনে রেখে ইতোমধ্যে অনেক মানুষ বাড়ির পথে রওনা দিয়েছেন। পরিবার ও স্বজনদের সঙ্গে আনন্দঘন সময় কাটানোর এই যাত্রা যেন অসুস্থতা বা ছোটখাটো দুর্ঘটনায় বিঘ্নিত না হয়, সে জন্য আগে থেকেই কিছু প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন চিকিৎসকেরা। বিশেষ করে দীর্ঘ যাত্রায় প্রাথমিক চিকিৎসা সামগ্রী ও প্রয়োজনীয় ওষুধ সঙ্গে রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য ভ্রমণের ব্যাগে কয়েকটি মৌলিক জিনিস রাখা যেতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন আকারের ব্যান্ডেজ বা ব্যান্ড–এইড, স্টেরিলাইজড গজ ও সার্জিক্যাল টেপ। তুলার পরিবর্তে গজ ব্যবহার করা নিরাপদ, কারণ তুলার আঁশ অনেক সময় ক্ষতে সংক্রমণ ঘটাতে পারে। এ ছাড়া ছোট কাঁচি ও চিমটা থাকলে ব্যান্ডেজ কাটতে বা ত্বকে ঢুকে যাওয়া ছোট কাঁটা বের করতে সুবিধা হয়।
চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী একটি ছোট ব্যাগে প্রয়োজনীয় কিছু ওষুধও রাখা উচিত। ভ্রমণের সময় বমি বা গ্যাসের সমস্যা হলে হাইওসিন–জাতীয় ওষুধ বা অ্যান্টাসিড কাজে লাগতে পারে। জ্বর বা ব্যথার জন্য প্যারাসিটামল বা আইবুপ্রোফেন রাখা যেতে পারে। যাদের অ্যালার্জির সমস্যা আছে, তাদের জন্য অ্যান্টিহিস্টামিন–জাতীয় ওষুধও প্রয়োজন হতে পারে।
যেসব ব্যক্তি নিয়মিত রক্তচাপ বা ডায়াবেটিসের ওষুধ গ্রহণ করেন, তাদের ক্ষেত্রে বাড়তি কয়েক দিনের ওষুধ সঙ্গে রাখা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এতে যাত্রাপথে ওষুধ ফুরিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমে।
ভ্রমণের সময় জীবাণুমুক্ত থাকার জন্য অ্যান্টিসেপটিক লোশন, হ্যান্ড স্যানিটাইজার বা অ্যালকোহল সোয়াব রাখা ভালো। এগুলো ক্ষতস্থান পরিষ্কার করতে এবং হাত জীবাণুমুক্ত রাখতে সহায়তা করে, যা সংক্রমণ প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখে।
পথের খাবার খাওয়ার কারণে অনেক সময় পেটের সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই সঙ্গে শুকনা খাবার যেমন বিস্কুট, প্রোটিন বার বা শুকনা ফল রাখা যেতে পারে। নিরাপদ পানির নিশ্চয়তা না থাকলে পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেটও কাজে লাগতে পারে। পাশাপাশি ডায়রিয়া বা পানিশূন্যতা এড়াতে ওআরএস বা খাওয়ার স্যালাইন রাখা উপকারী।
হঠাৎ জ্বর হলে তা মাপার জন্য থার্মোমিটার রাখা যেতে পারে। আবার দীর্ঘ যাত্রায় পা মচকে যাওয়া বা পেশিতে টান লাগলে তাৎক্ষণিক আরামের জন্য পেইন কিলার স্প্রে বা কোল্ড প্যাক সহায়ক হতে পারে।
ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি রক্ষার জন্য ছোট টুথব্রাশ, টুথপেস্ট, সাবান ও ছোট তোয়ালে সঙ্গে রাখা ভালো। নখ কাটার জন্য নেইল কাটার বা রেজারের মতো ব্যক্তিগত জিনিসও নিজস্বভাবে ব্যবহার করা উচিত, যাতে অন্যের মাধ্যমে সংক্রমণের ঝুঁকি না থাকে।
যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া এড়াতে একটি শক্তিশালী পাওয়ার ব্যাংক রাখা যেতে পারে। পাশাপাশি পরিবারের সদস্য, পারিবারিক চিকিৎসক বা নিকটস্থ হাসপাতালের জরুরি নম্বর একটি কাগজে লিখে রাখাও কার্যকর হতে পারে, বিশেষ করে ফোনের চার্জ শেষ হয়ে গেলে।
ডেঙ্গু বা ম্যালেরিয়ার মতো রোগ থেকে সুরক্ষার জন্য মশা প্রতিরোধক ক্রিম বা স্প্রে ব্যাগে রাখা প্রয়োজন, বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ। এ ছাড়া রোদ থেকে ত্বক রক্ষায় সানস্ক্রিন, সানগ্লাস ও ক্যাপ ব্যবহার করা যেতে পারে।
দীর্ঘ যাত্রা আরামদায়ক করতে ট্রাভেল পিলো, কমপ্রেশন সকস, স্লিপ মাস্ক বা নয়েজ ক্যানসেলিং হেডফোনও কাজে আসতে পারে। বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও প্রেসক্রিপশন হাতব্যাগে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকেরা।
সিএ/এমআর


