কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানের সময় এক সাংবাদিককে আটক করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় আলোচনা তৈরি হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) দুপুরে উপজেলার হাসপাতাল মোড়ে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাটির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
পরে আটক সাংবাদিককে আদালতে হাজির করা হলে একই দিন রাতেই তিনি জামিনে মুক্তি পান বলে জানা গেছে।
আটক আলি জামশেদ (৫০) দৈনিক নয়াদিগন্ত পত্রিকার বাজিতপুর উপজেলা সংবাদদাতা। পাশাপাশি তিনি কালবেলা পত্রিকার নিকলী উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবেও কাজ করেন। তাঁর অভিযোগ, সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রতীক দত্তের অনিয়ম নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করার জেরে তাঁকে আটক করা হয়েছে। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা।
ভ্রাম্যমাণ আদালত ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রতীক দত্তের নেতৃত্বে নিকলী হাসপাতাল মোড়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালিত হচ্ছিল। ওই সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক আলি জামশেদ। অভিযানের একপর্যায়ে আদালত তাঁর ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স দেখতে চান। তবে তিনি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে পারেননি বলে জানা যায়। সে সময় তিনি দাবি করেন, মোটরসাইকেলটি তাঁর নয়।
এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, ওই সময় ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে তর্কে জড়ান সাংবাদিক আলি জামশেদ।
এ বিষয়ে আলি জামশেদ বলেন, ‘সংবাদ প্রকাশের কারণে পুরোনো আক্রোশ মেটাতে আমাকে আটক করা হয়। পরে বিকেলে থানার গাড়িতে করে কিশোরগঞ্জ আদালতে পাঠানো হয়। রাত ১০টার দিকে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সবকিছু পর্যালোচনা করে আমাকে জামিন দেন। এ ঘটনায় আমার ও আমার পরিবারের সদস্যরা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত।’
ঘটনার দিন ১২ মার্চ এবং এর আগে সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রতীক দত্তের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে একাধিক সংবাদ প্রকাশ করেছিলেন সাংবাদিক আলি জামশেদ।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রতীক দত্ত বলেন, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সময় রেজিস্ট্রেশনবিহীন একটি মোটরসাইকেল আটক করা হয়। চালক আলি জামশেদের কাছে ড্রাইভিং লাইসেন্স চাইলে তিনি তা দেখাতে পারেননি। এ সময় তিনি তাঁর সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং তাঁর এলাকার লোকজনকে এনে হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। প্রতীক দত্ত আরও বলেন, তিনি (জামশেদ) অপরাধ স্বীকার না করায় তাৎক্ষণিক কোনো শাস্তি না দিয়ে তাঁকে আটকের নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রমে বাধা, ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণসহ আরও কিছু অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কিশোরগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়।
সিএ/এমই


