নাটোরের লালপুর উপজেলায় এক স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মীর কলাবাগানের ১৫২টি কলাগাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার বিজয়পুর গ্রামে প্রকাশ্যে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিজয়পুর গ্রামের ছফির উদ্দিনের ছেলে নজরুল ইসলাম (৫৫) প্রায় এক বছর আগে নিজের জমিতে একটি কলাবাগান গড়ে তোলেন। চলতি মৌসুমে বাগানের বেশির ভাগ গাছে ফল ধরতে শুরু করেছিল। মঙ্গলবার সকালে প্রতিবেশী জাহাঙ্গীর হোসেন, জহুরুল ইসলাম, মো. রান্টুসহ আরও দুজন বহিরাগত যুবক হাঁসুয়া ও লাঠিসোঁটা নিয়ে ওই বাগানে প্রবেশ করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাঁরা প্রকাশ্যে বাগানের ১৫২টি কলাগাছ কেটে ফেলেন।
এ সময় নজরুল ইসলাম ও তাঁর স্ত্রী বাধা দিতে গেলে তাঁদের মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। পরে আহত অবস্থায় তাঁরা লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন।
নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমি বিজয়পুর ৩ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাবেক সভাপতি। গত জাতীয় নির্বাচনে আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী তাইফুল ইসলামের কর্মী হিসেবে কাজ করি। প্রতিবেশী জাহাঙ্গীর হোসেনরা ধানের শীষের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেন। নির্বাচনে আমার প্রার্থী হেরে যাওয়ার পর থেকে তারা আমার জানমালের হুমকি দিতে থাকে। হঠাৎ আজ সকালে সন্ত্রাসী ভাড়া করে তারা আমার দেড় শত কলাগাছ কেটে ফেলেছে। এতে আমার অন্তত ৯০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে।’
তবে অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, ঘটনার সঙ্গে নির্বাচনের কোনো সম্পর্ক নেই। তিনি বলেন, জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ রয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি করা জমিতে কলাগাছ লাগিয়ে দখল নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। প্রকৃত মালিকেরা নিজেদের জমির দখল নিতে গিয়ে গাছ কেটে ফেলেছেন।
এ বিষয়ে লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবর রহমান বলেন, ‘কলাগাছ কাটার অভিযোগ আমার হাতে এসে পৌঁছায়নি। অভিযোগ আমার হাতে এলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
সিএ/এমই


