বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম হঠাৎ বেড়ে গেলেও এখনই নিজেদের সংরক্ষিত জরুরি তেল মজুত বাজারে ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেয়নি শিল্পোন্নত সাত দেশের জোট জি-৭। তবে প্রয়োজন হলে জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে সব ধরনের পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছে জোটটি।
সোমবার জি-৭ দেশের অর্থমন্ত্রীদের এক বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়। মূলত রোববার রাতে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার পর পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার সম্ভাব্য পদক্ষেপ নিয়ে ওই বৈঠকে মতবিনিময় করেন জোটের সদস্যরা।
বৈঠকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এখনই কৌশলগত তেল মজুত ছাড়ার বিষয়ে অর্থমন্ত্রীদের মধ্যে ঐকমত্য হয়নি। তবে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনে বাজারে তেলের সরবরাহ বাড়াতে জরুরি মজুত ব্যবহার করা হতে পারে।
জি-৭ জোটের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে তারা প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত রয়েছে। এর মধ্যে কৌশলগত তেল মজুত বাজারে ছাড়ার মতো সিদ্ধান্তও থাকতে পারে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই পদক্ষেপ এখনই নেওয়া হচ্ছে না।
বৈঠকের বিষয়ে অবগত জি-৭-এর ওই কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, ‘এ বিষয়ে সবার মধ্যে সাধারণ ঐকমত্য ছিল। বিষয়টি এমন নয় যে কেউ এর বিরোধিতা করেছে, বরং এটি সঠিক সময়ের ব্যাপার। এ জন্য আরও পর্যালোচনার প্রয়োজন রয়েছে।’
তিনি আরও জানান, বিষয়টি নিয়ে আলোচনা অব্যাহত থাকবে। মঙ্গলবার একই ইস্যুতে জি-৭ দেশগুলোর জ্বালানিমন্ত্রীরা একটি টেলিকনফারেন্সে অংশ নেবেন। পাশাপাশি চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে জোটের শীর্ষ নেতারাও বৈঠকে বসবেন।
ওই কর্মকর্তার মতে, তেলের কৌশলগত মজুত ব্যবহারের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জি-৭ জোটের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক থেকেই আসতে পারে।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, জাপান, ইতালি, জার্মানি ও ফ্রান্স নিয়ে জি-৭ জোট গঠিত। বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিলে এসব দেশ সাধারণত তাদের কৌশলগত মজুত ব্যবহার করে বাজার স্থিতিশীল রাখার উদ্যোগ নেয়।
মঙ্গলবার (১০ ডিসেম্বর) প্রকাশিত এই আলোচনায় জ্বালানি বাজারের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি এবং সম্ভাব্য পদক্ষেপ নিয়ে জি-৭ দেশগুলোর মধ্যে সমন্বয় অব্যাহত রাখার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সিএ/এমই


