খেলারত বা হাসিখুশি একটি শিশু হঠাৎ খাবার খাওয়ার সময় মুখ লাল হয়ে যাওয়া, কথা বা শব্দ বন্ধ হয়ে যাওয়া কিংবা শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি করলে পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এই অবস্থাকে বলা হয় চোকিং, যা শিশুদের ক্ষেত্রে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে।
শিশু বিশেষজ্ঞদের মতে, ছয় মাস থেকে তিন বছর বয়স পর্যন্ত শিশুরা এ ধরনের ঝুঁকিতে সবচেয়ে বেশি থাকে। কারণ এই সময় তাদের দাঁত পুরোপুরি ওঠে না এবং গিলতে শেখার প্রক্রিয়াও সম্পূর্ণ হয় না। ফলে শক্ত বা গোলাকার খাবার গলায় আটকে যাওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, আঙুর, বাদাম, শক্ত বিস্কুটের মতো গোল, শক্ত বা পিচ্ছিল খাবার শিশুদের ক্ষেত্রে খুব সতর্কতার সঙ্গে দিতে হবে। খাবার দেওয়ার সময় শিশুর অবস্থান এবং খাবারের আকারও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
শিশুর গলায় খাবার আটকে গেলে প্রথমেই লক্ষ্য করতে হবে সে কাশতে পারছে কি না। যদি শিশু কাশতে পারে, কাঁদতে পারে বা কোনো শব্দ বের হয়, তাহলে ধরে নেওয়া যায় শ্বাসনালি পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। এ অবস্থায় শিশুর মুখে আঙুল ঢোকানোর চেষ্টা করা উচিত নয়। এতে খাবার আরও ভেতরে চলে যেতে পারে। বরং শিশুকে কাশতে দিতে হবে, অনেক সময় কাশির মাধ্যমেই আটকে থাকা খাবার বের হয়ে আসে।
কিন্তু যদি শিশুর মুখ নীলচে হয়ে যায়, কোনো শব্দ না বের হয় বা শ্বাস নিতে কষ্ট হয়, তাহলে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।
এক বছরের কম বয়সী শিশুর ক্ষেত্রে তাকে উপুড় করে কাঁধ বা উরুর ওপর রাখতে হবে, যাতে মাথা শরীরের তুলনায় নিচের দিকে থাকে। এরপর পিঠের মাঝামাঝি অংশে হাতের তালু দিয়ে পাঁচবার দৃঢ়ভাবে চাপড় দিতে হবে। এতে কাজ না হলে শিশুকে চিত করে বুকে দুই আঙুল দিয়ে পাঁচবার চাপ দিতে হয়।
এক বছরের বেশি বয়সী শিশুর ক্ষেত্রে ‘হাইমলিক পদ্ধতি’ প্রয়োগ করা যেতে পারে। তবে এই পদ্ধতি সঠিকভাবে না শিখে প্রয়োগ করা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তাই অনেক বিশেষজ্ঞ অভিভাবকদের প্রাথমিক চিকিৎসা বিষয়ে প্রশিক্ষণ নেওয়ার পরামর্শ দেন।
এ ধরনের পরিস্থিতিতে একটি বড় ভুল হলো চোখে না দেখে আঙুল বা কোনো বস্তু দিয়ে খাবার বের করার চেষ্টা করা। এতে খাবার আরও ভেতরে সরে গিয়ে শ্বাসনালি সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
শিশুকে খাওয়ানোর সময় বসিয়ে রাখা উচিত এবং দৌড়াতে বা খেলতে খেলতে খাবার দেওয়া উচিত নয়। খাবার সব সময় ছোট ছোট টুকরো করে দিলে গিলতে সুবিধা হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুদের নিরাপত্তা অনেকাংশে নির্ভর করে অভিভাবকদের সচেতনতার ওপর। আতঙ্কিত না হয়ে সঠিক পদ্ধতি জানা এবং দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়াই এমন পরিস্থিতিতে একটি জীবন বাঁচানোর প্রধান উপায়।
সিএ/এমআর


