প্রেমের সম্পর্ক ভেঙে গেলে অনেকেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। মনে হয় যেন জীবনের সব আনন্দ হঠাৎ করে হারিয়ে গেছে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, অতীতের দুঃখ আঁকড়ে ধরে থাকার পরিবর্তে নতুনভাবে নিজেকে গড়ে তোলাই জীবনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
এই বার্তাই স্মরণ করিয়ে দেয় ‘ব্যর্থ প্রেম ভুলে ঘুরে দাঁড়ানোর দিন’। প্রতিবছর ৯ মার্চ বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে অনেকেই দিনটিকে এভাবেই পালন করেন। প্রেমে ব্যর্থতার কষ্ট পেছনে ফেলে নতুনভাবে জীবন শুরু করার অনুপ্রেরণা দিতেই দিনটির প্রচলন হয়েছে।
প্রেম মানুষের জীবনের স্বাভাবিক একটি অনুভূতি। কিন্তু সব সম্পর্ক শেষ পর্যন্ত টিকে থাকে না। বিচ্ছেদের পর অনেকেই হতাশ হয়ে পড়েন এবং স্বাভাবিক জীবনযাপনেও ব্যাঘাত ঘটে। কেউ কেউ দীর্ঘ সময় ধরে সেই কষ্ট ভুলতে পারেন না।
তবে জীবন যে থেমে থাকে না, সেটিই মনে করিয়ে দেয় এই দিনটি। একটি সম্পর্কের সমাপ্তি মানেই জীবনের সমাপ্তি নয়— বরং এটি নতুনভাবে নিজেকে গড়ে তোলার সুযোগ এনে দিতে পারে বলে মনে করেন অনেকেই।
অনেকে বলেন, ভালোবাসা দিবস এবং এপ্রিল ফুল দিবসের মাঝামাঝি সময় হওয়ায় ৯ মার্চকে এই দিন হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে। ভালোবাসার উচ্ছ্বাসের পর এবং মজার একটি দিনের আগে এই সময়কে ধরা হয়েছে আত্মবিশ্লেষণ ও নতুনভাবে এগিয়ে যাওয়ার প্রতীক হিসেবে।
জানা যায়, এই দিবসটির সূচনা হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রে। আটলান্টার বাসিন্দা জেফ গোল্ডব্ল্যাট নামের এক তরুণ এর পেছনে ভূমিকা রাখেন। ব্যক্তিগত জীবনে প্রেমে ব্যর্থ হয়ে তিনি দীর্ঘ সময় মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন। পরে তিনি উপলব্ধি করেন, পৃথিবীতে অসংখ্য মানুষ একই ধরনের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যান।
এই উপলব্ধি থেকেই তিনি একটি কবিতা লেখেন এবং একটি ওয়েবসাইটের মাধ্যমে তা প্রকাশ করেন। তার সেই উদ্যোগ অল্প সময়ের মধ্যেই অনেক মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এবং ধীরে ধীরে বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যমেও আলোচনায় আসে।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে দিনটি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পরিচিত হয়ে ওঠে। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে এটি নিয়ে আগ্রহ বাড়তে দেখা যায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সম্পর্ক ভেঙে যাওয়া জীবনের একটি বাস্তব ঘটনা। তবে এটি মানুষকে নতুন অভিজ্ঞতা ও শিক্ষা দেয়। তাই অতীতের কষ্টে আটকে না থেকে ভবিষ্যতের সম্ভাবনার দিকে এগিয়ে যাওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
সিএ/এমআর


