রমজান মাস শেষে মুসলমানদের জন্য ঈদ একটি আনন্দঘন উপলক্ষ। সারা মাস সিয়াম সাধনার পর ঈদের দিনকে আল্লাহর পক্ষ থেকে এক বিশেষ পুরস্কার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তাই এই দিনকে ঘিরে মুসলিম সমাজে আনন্দ, প্রস্তুতি ও সামাজিক মিলনের এক বিশেষ আবহ তৈরি হয়।
ঈদের দিন মুসলমানদের প্রথম আয়োজন হলো ঈদের নামাজ। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘এ দিনে আমাদের প্রথম করণীয় হলো, ঈদের নামাজ।’ (বোখারি : ৯৫১)। তাই ঈদের প্রস্তুতির শুরুতেই নামাজের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা প্রয়োজন। এ উপলক্ষে পরিষ্কার ও সুন্দর পোশাক প্রস্তুত রাখার কথাও বলা হয়েছে।
ইসলামি বর্ণনায় জানা যায়, রাসুল (সা.) ঈদের দিন ভালো পোশাক পরতেন। তার পছন্দের পোশাকের মধ্যে ছিল জুব্বা। তিনি কখনো কালো পাগড়ি, কখনো লাল ডোরাকাটা চাদর কিংবা ইয়েমেনি কারুকাজ করা সবুজ চাদর পরতেন। তবে সাদা কাপড়ের প্রতি তার বিশেষ অনুরাগ ছিল। তিনি বলেছেন, ‘তোমরা সাদা কাপড় পরবে। এটা তোমাদের জন্য সেরা জামা। মৃতদেরও সাদা কাপড়ে কাফন দেবে।’ (সুনানে আবি দাউদ : ৩৮৭৮)।
ঈদের আনন্দে শিশুদের অংশগ্রহণও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাসুল (সা.) ছোটদের আনন্দের বিষয়কে গুরুত্ব দিতেন। আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেছেন, ‘আমি রাসুল (সা.)-এর ঘরে আমার সখীদের সঙ্গে খেলাধুলা করতাম। রাসুল (সা.) এলে তারা লুকিয়ে পড়ত। তিনি তাদের বের করে আনতেন। আমার সঙ্গে খেলায় জুড়ে দিতেন।’ (মুসলিম : ২৩১০)।
নারীদের ক্ষেত্রেও ঈদের প্রস্তুতি ও আনন্দের সুযোগ রয়েছে। তারা নিজেদের মাহরাম আত্মীয়দের সামনে সুন্দর পোশাকে আনন্দ করতে পারেন। তবে ইসলামে শালীনতা, নিরাপত্তা এবং সামাজিক মূল্যবোধের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়েছে।
ঈদের দিনে নামাজে যাওয়ার আগে মিষ্টিজাতীয় কিছু খাওয়া সুন্নত। বর্ণনা অনুযায়ী রাসুল (সা.) বেজোড় সংখ্যায় খেজুর খেয়ে ঈদগাহে যেতেন। (বোখারি : ৯৫৩)।
এ ছাড়া ঈদের সময় আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতদের মধ্যে উপহার বা হাদিয়া আদান-প্রদান সামাজিক বন্ধনকে আরও দৃঢ় করে। মেহমানদারি ও পারস্পরিক সহযোগিতা মুসলিম সমাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, ঈদের কেনাকাটার সময় অতিরিক্ত ভোগবাদে না গিয়ে সমাজের দরিদ্র মানুষের কথাও মনে রাখা উচিত। তাদের সহায়তায় অংশগ্রহণ করলে ঈদের আনন্দ আরও অর্থবহ হয়ে ওঠে।
সিএ/এমআর


