ইরানের বিশেষজ্ঞ পরিষদের সদস্য আয়াতুল্লাহ মোজাফফারি আশা প্রকাশ করেছেন যে, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দেশের নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হতে পারে। তবে তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়নি এবং চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়নি।
শনিবার ইরানি গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সম্ভাব্য হামলার নতুন ঢেউয়ের আশঙ্কার মধ্যে দেশটির দুই প্রভাবশালী ও কট্টরপন্থি ধর্মীয় নেতা দ্রুত নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের মতে, চলমান সংকটময় পরিস্থিতিতে রাষ্ট্র পরিচালনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে দ্রুত নেতৃত্ব নির্ধারণ জরুরি।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প নতুন নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা থাকা উচিত বলে মন্তব্য করেন। তবে ইরান এই দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে, দেশের অভ্যন্তরীণ নেতৃত্ব নির্বাচনের বিষয়ে বাইরের কোনো রাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ গ্রহণযোগ্য নয়।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, গ্র্যান্ড আয়াতুল্লাহ হোসেইন নুরি হামেদানি বিশেষজ্ঞ পরিষদের সদস্যদের উদ্দেশে আহ্বান জানিয়েছেন, যেন তারা খামেনির উত্তরসূরি নির্ধারণের প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করেন। বিশেষজ্ঞ পরিষদই ইরানের সেই ধর্মীয় সংস্থা, যাদের ওপর দেশের সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের দায়িত্ব ন্যস্ত রয়েছে।
ইরানের সংবিধান অনুযায়ী, নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব একটি অস্থায়ী কাউন্সিলের হাতে থাকে। এই তিন সদস্যের কাউন্সিলে রয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট, একজন জ্যেষ্ঠ ধর্মীয় নেতা এবং বিচার বিভাগের প্রধান।
সংবিধানে উল্লেখ রয়েছে, সর্বোচ্চ নেতা পদ শূন্য হওয়ার তিন মাসের মধ্যে নতুন নেতা নির্বাচন করতে হবে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে যুদ্ধের তীব্রতা বাড়তে থাকায় ৮৮ সদস্যের বিশেষজ্ঞ পরিষদ কত দ্রুত বৈঠকে বসতে পারবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
সূত্র: ইরান ইন্টারন্যাশনাল
সিএ/এসএ


