কক্সবাজারের পেকুয়ায় দুই নারীকে থানায় ডেকে নিয়ে পুলিশের মারধরের অভিযোগ উঠেছে। বুধবার বিকেলে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় পরে থানায় ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে দুজনকে এক মাস করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে অভিযোগ উল্টোভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
মারধরের শিকার দুই নারী হলেন রেহেনা মোস্তফা (৪২) ও তাঁর মেয়ে জুবাইদা বেগম (২১)। তাদেরকে পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহবুবুল আলম এক মাসের কারাদণ্ড দেন এবং বুধবার সন্ধ্যায় কক্সবাজার জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলার সূত্রে জানা গেছে, জুবাইদা বেগম ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ আইনে ২০২৪ সালে চকরিয়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন। মামলার তদন্তের দায়িত্ব পেকুয়া থানার এসআই পল্লব কুমার ঘোষ পান। বাদী পরিবারের অভিযোগ, এসআই পল্লব মামলার প্রতিবেদন পক্ষে দিতে বিপুল অঙ্কের টাকা দাবি করেছিলেন। টাকা দেওয়ার পরও তিনি প্রতিবেদন বিপক্ষে দেন। এর জের ধরে বুধবার এসআই পল্লব মা-মেয়েকে থানায় ডেকে নিয়ে মারধর করেন।
তাদের স্বজন জানান, মারধরে রেহেনার মুখ, বাঁ চোখ, দুই হাতের বাহু, বুক ও তলপেটে আঘাত এবং জুবাইদার বাহু, থুতনি ও বুকে জখমের চিহ্ন রয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, দুই নারী থানায় প্রবেশের পর গালাগাল ও হস্তক্ষেপ করে, পরে থানার দেয়ালে গিয়ে নিজেরাই আঘাতের শিকার হয়েছেন। পেকুয়া থানার উপপরিদর্শক পল্লব কুমার ঘোষ বলেন, “ওরা খুব অ্যাগ্রেসিভ ছিলেন। আমাদের নারী কনস্টেবলদের বাধা দেওয়ার সময় নিজেদের আঘাত হয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।”
ইউএনও মাহবুবুল আলম বলেন, “মহিলারা সরকারি কাজে বাধা দিয়েছেন এবং পুলিশ অফিসারের সঙ্গে হাতাহাতি করেছেন। এজন্য ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে সাজা দেওয়া হয়েছে।”
তবে জুবাইদা বেগমের আইনজীবী মিজবাহ উদ্দিন প্রশ্ন তুলেছেন, “পুলিশ কেন থানার ভেতরে মা-মেয়েকে পিটিয়ে রক্তাক্ত করল? ভ্রাম্যমাণ আদালত বসানো কি আইনি?”
সিএ/এমই


