সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলায় সরকারি প্রকল্পের সড়কের ইট লুটের অভিযোগে যুব জামায়াতের এক নেতাসহ ছয়জনকে আটক করেছে প্রশাসন। বৃহস্পতিবার (৬ ডিসেম্বর) সকাল থেকে বেলা তিনটা পর্যন্ত উপজেলার কসকনকপুর ইউনিয়নের মুন্সিবাজার এলাকায় টাস্কফোর্সের সমন্বিত অভিযান চালানো হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাসুদুর রহমানের নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানে বিজিবি, পুলিশ ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা অংশ নেন। অভিযানে বিভিন্ন বাড়ি ও রাস্তার পাশ থেকে কয়েক লাখ ইট উদ্ধার করা হয়েছে বলে প্রশাসন জানিয়েছে।
আটক ব্যক্তিদের মধ্যে জকিগঞ্জ উপজেলা যুব জামায়াতের সহসাংগঠনিক সম্পাদক মাহফুজুল ইসলাম চৌধুরী রয়েছেন। অন্যদের নাম তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। প্রশাসন জানিয়েছে, তাঁদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
বৃহস্পতিবার বিকেলে ইউএনও মাসুদুর রহমান বলেন, রাস্তার ইটগুলো ইউপি চেয়ারম্যানের জিম্মায় রাখতে বলা হয়েছিল। কিছু ইট এখনো আছে; কিন্তু অধিকাংশ ইট লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। লুট হওয়া ইটগুলো অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় ছয়জনকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা করা হবে।
মাহফুজুল ইসলাম চৌধুরীকে আটকের ঘটনায় এলাকায় আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয়ভাবে জানা গেছে, ইট লুটের ঘটনার বিরুদ্ধে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় ছিলেন। বৃহস্পতিবারও তিনি ফেসবুকে লেখেন ‘লড়াই চলবে। কোন আপোষ নয়! সত্য সুন্দর এবার প্রমানিত হবেই।’
এ বিষয়ে উপজেলা যুব জামায়াতের সভাপতি আবিদুর রহমান বলেন, ‘মাহফুজুলের আটকের বিষয়টি ভুল–বোঝাবুঝি হয়েছে। মূলত মাহফুজ ইট লুট ঠেকাতে সক্রিয় ছিলেন। ইটগুলো যাতে লুটপাট না হয় এবং ইটগুলো দিয়ে অন্য রাস্তায় কাজে লাগানোর জন্য নিজের জিম্মায় রেখেছিলেন। তবে মাহফুজের এ কাজে যাওয়া ঠিক হয়নি। আবেগের বসে ভালো উদ্যোগ মনে করে কাজটি করতে গিয়েছিল। এ কাজে চেয়ারম্যান কিংবা মেম্বারকে নিয়ে করলে ভুল হতো না।’
স্থানীয় সূত্র জানায়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের অধীনে ২০২১ সালের দিকে কসকনকপুর ইউনিয়নের মুন্সিবাজার মাদ্রাসা থেকে উত্তর আইয়র বিজিবি ক্যাম্প পর্যন্ত প্রায় আড়াই কিলোমিটার সড়ক হেরিংবোন বন্ড পদ্ধতিতে প্রায় ১০ লাখ ইট দিয়ে সংস্কার করা হয়। বর্তমানে পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীনে সুরমা নদীর বাঁধ মেরামতের কাজের জন্য ওই সড়কে মাটি ভরাট করা হচ্ছে। এ কারণে প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাটি ভরাটের আগে সড়কের ইট খুলে মাদ্রাসার মাঠে সংরক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
কিছু ইট মাঠে রাখা হলেও অভিযোগ রয়েছে, রাতের আঁধারে বিপুলসংখ্যক ইট সরিয়ে নেওয়া হয়। উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার (৫ ডিসেম্বর) এলাকাবাসীর পক্ষে আবু ইউসুফ মোহাম্মদ নামে এক ব্যক্তি ইউএনওর কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগে বলা হয়, সরকারি প্রকল্পের সড়ক থেকে প্রায় ১৫ লাখ ইট সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
অভিযোগের ভিত্তিতে প্রশাসন টাস্কফোর্স গঠন করে বৃহস্পতিবার অভিযান শুরু করে। মুন্সিবাজার মাদ্রাসা থেকে উত্তর আইয়র এলাকার বিভিন্ন বাড়ি ও সড়কের পাশ থেকে ইট উদ্ধার করা হয় এবং সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ছয়জনকে আটক করা হয়।
জকিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুর রাজ্জাক জানান, রাস্তা থেকে ইট লুটের ঘটনায় ছয়জনকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
সিএ/এমই


