সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলায় সরকারি রাস্তার ইট লুটপাটের অভিযোগে যুব জামায়াতের এক নেতাসহ ছয়জনকে আটক করেছে প্রশাসন। বৃহস্পতিবার ( ৫ ডিসেম্বর) দুপুরে উপজেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে গঠিত একটি টাস্কফোর্স অভিযান চালিয়ে লুট হওয়া ইট উদ্ধার এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আটক করে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাসুদুর রহমানের নেতৃত্বে সকাল থেকে বেলা তিনটা পর্যন্ত কসকনকপুর ইউনিয়নের মুন্সিবাজার এলাকায় অভিযান পরিচালিত হয়। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে জকিগঞ্জ উপজেলা যুব জামায়াতের সহসাংগঠনিক সম্পাদক মাহফুজুল ইসলাম চৌধুরী রয়েছেন। অন্যদের নাম তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
অভিযানে মুন্সিবাজার মাদ্রাসা থেকে উত্তর আইয়র বিজিবি ক্যাম্পসংলগ্ন এলাকার বিভিন্ন বাড়ি ও রাস্তার পাশ থেকে কয়েক লাখ ইট উদ্ধার করা হয়। প্রশাসনের দাবি, রাস্তার উন্নয়নকাজের জন্য তুলে রাখা ইটের একটি বড় অংশ রাতের অন্ধকারে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল।
ইউএনও মাসুদুর রহমান বৃহস্পতিবার বিকেলে বলেন, রাস্তার ইটগুলো ইউপি চেয়ারম্যানের জিম্মায় রাখতে বলা হয়েছিল। কিছু ইট এখনো আছে; কিন্তু অধিকাংশ ইট লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। লুট হওয়া ইটগুলো অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় ছয়জনকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা করা হবে।
মাহফুজুল ইসলাম চৌধুরীর আটকের ঘটনায় এলাকায় আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়ভাবে জানা গেছে, তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইট লুটের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে সরব ছিলেন। বৃহস্পতিবারও তিনি ফেসবুকে লেখেন ‘লড়াই চলবে। কোন আপোষ নয়! সত্য সুন্দর এবার প্রমানিত হবেই।’
উপজেলা যুব জামায়াতের সভাপতি আবিদুর রহমান বলেন, ‘মাহফুজুলের আটকের বিষয়টি ভুল–বোঝাবুঝি হয়েছে। মূলত মাহফুজ ইট লুট ঠেকাতে সক্রিয় ছিলেন। ইটগুলো যাতে লুটপাট না হয় এবং ইটগুলো দিয়ে অন্য রাস্তায় কাজে লাগানোর জন্য নিজের জিম্মায় রেখেছিলেন। তবে মাহফুজের এ কাজে যাওয়া ঠিক হয়নি। আবেগের বসে ভালো উদ্যোগ মনে করে কাজটি করতে গিয়েছিল। এ কাজে চেয়ারম্যান কিংবা মেম্বারকে নিয়ে করলে ভুল হতো না।’
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের অধীনে ২০২১ সালের দিকে কসকনকপুর ইউনিয়নের মুন্সিবাজার মাদ্রাসা থেকে উত্তর আইয়র বিজিবি ক্যাম্প পর্যন্ত প্রায় আড়াই কিলোমিটার সড়ক হেরিংবোন বন্ড পদ্ধতিতে প্রায় ১০ লাখ ইট দিয়ে সংস্কার করা হয়। বর্তমানে পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধানে সুরমা নদীর বাঁধ সংস্কারের কাজ চলায় ওই সড়কে মাটি ভরাট করা হচ্ছে। সে কারণে উপজেলা প্রশাসন মাটি ভরাটের আগে রাস্তার ইট খুলে মাদ্রাসা মাঠে সংরক্ষণের নির্দেশ দেয়। কিছু ইট সরানো হলেও অধিকাংশ ইট চুরির অভিযোগ ওঠে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে আবু ইউসুফ মোহাম্মদ নামের এক ব্যক্তি ইউএনওর কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। তিনি অভিযোগ করেন, সরকারি প্রকল্পের ওই সড়ক থেকে প্রায় ১৫ লাখ ইট রাতের অন্ধকারে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ইউএনও, বিজিবি, পুলিশ এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে টাস্কফোর্স গঠন করা হয়। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন স্থানে মজুত রাখা ইট উদ্ধার এবং সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ছয়জনকে আটক করা হয়।
জকিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুর রাজ্জাক জানান, রাস্তা থেকে ইট লুটের ঘটনায় ছয়জনকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
সিএ/এমই


