ঘন কুয়াশার কারণে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ও মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া নৌপথে প্রায় চার ঘণ্টা ফেরি চলাচল বন্ধ ছিল। মঙ্গলবার ( ৫ ডিসেম্বর) ভোর থেকে কুয়াশা ঘন হয়ে পড়ায় নৌপথ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। এতে মাঝনদীতে তিনটি ফেরি দিক হারিয়ে আটকে পড়ে এবং পরে উভয় ঘাটে ফেরি চলাচল সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) আরিচা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এক দিন বিরতির পর ভোর থেকেই নদী অববাহিকায় ঘন কুয়াশা পড়তে শুরু করে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কুয়াশার ঘনত্ব বৃদ্ধি পায়। ভোর পাঁচটার দিকে দৌলতদিয়া ও পাটুরিয়া ঘাট থেকে ছেড়ে যাওয়া রো রো ফেরি ‘ভাষাসৈনিক গোলাম মাওলা’, ‘ভাষাশহীদ বরকত’ এবং ইউটিলিটি ফেরি ‘হাসনাহেনা’ মাঝনদীতে দিক হারিয়ে ফেলে। পরিস্থিতি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠলে ফেরি তিনটি মাঝনদীতেই নোঙর করতে বাধ্য হয়।
মাঝনদীতে ফেরি আটকে পড়ার ঘটনায় নিরাপত্তাজনিত কারণে ভোর ৫টা ৫০ মিনিট থেকে দৌলতদিয়া ও পাটুরিয়া ঘাটে ফেরি চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এ সময় দৌলতদিয়া ঘাটে ‘শাহ পরান’, ‘বাইগার’ ও ‘বনলতা’ নামের তিনটি ফেরি নোঙর করে রাখা হয়। অপরদিকে পাটুরিয়া প্রান্তে ‘বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীর’, ‘কেরামত আলী’, ‘কুমিল্লা’ ও ‘শাহ মখদুম’ নামের চারটি ফেরি নোঙর অবস্থায় ছিল।
কুয়াশা কমতে শুরু করলে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে দৌলতদিয়া ঘাট থেকে প্রথম ফেরি ছেড়ে যায়। পরে সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে পাটুরিয়া ঘাট থেকেও ফেরি চলাচল স্বাভাবিক হয়। প্রায় চার ঘণ্টা বন্ধ থাকার কারণে উভয় ঘাটে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক যানবাহন পারাপারের অপেক্ষায় আটকে পড়ে, ফলে যাত্রী ও চালকদের ভোগান্তি বাড়ে।
বিআইডব্লিউটিসি আরিচা কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপমহাব্যবস্থাপক আবদুস সালাম বলেন, ফাল্গুনের মাঝামাঝি সময়ে পদ্মা নদী অববাহিকায় আকস্মিকভাবে ঘন কুয়াশা দেখা দেওয়ায় ফেরিসহ অন্যান্য নৌযান চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। শনিবার দিবাগত মধ্যরাত থেকে পরদিন ভোর পর্যন্ত প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর মঙ্গলবার পুনরায় প্রায় চার ঘণ্টা ফেরি চলাচল বন্ধ ছিল। এ ছাড়া মাঝনদীতে তিনটি ফেরি আটকা পড়ায় যাত্রীসহ চালকেরা বাড়তি ভোগান্তিতে পড়েছেন।
সিএ/এমই


