চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করেছেন চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা জামায়াতের আমির রুহুল আমিন। শুক্রবার সকালে তিনি নিজেই ঝাড়ু হাতে নিয়ে হাসপাতাল চত্বরে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নেন।
সকাল ৯টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পৌঁছে পরিচ্ছন্নতা অভিযানের উদ্বোধন করেন এমপি রুহুল আমিন। উদ্বোধনের পর তিনি হাসপাতালের সামনের অংশে ঝাড়ু দেন এবং ঝোপঝাড় পরিষ্কার করেন। এরপর হাসপাতালের পেছনের অংশসহ আশপাশের এলাকাতেও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালানো হয়।
পরিচ্ছন্নতা অভিযান শেষে হাসপাতালের সভাকক্ষে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তিনি। এ সময় হাসপাতালের সার্বিক কার্যক্রম, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা ও জনবল সংকটসহ বিভিন্ন সমস্যা সম্পর্কে অবগত হন এমপি রুহুল আমিন। তিনি দ্রুত এসব সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন। একই সঙ্গে নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আগামী ছয় মাসের মধ্যে অপারেশন থিয়েটার চালু করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় রুহুল আমিন বলেন, আমার জন্মস্থান জীবননগরের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবেশ দেখে আমি মুগ্ধ। হাসপাতালের বাইরের পরিবেশ অত্যন্ত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন। সাধারণত হাসপাতালে যে ধরনের দুর্গন্ধ থাকে, আজ তা পাইনি। এটি একটি ইতিবাচক দিক।
তিনি আরও জানান, দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালের এক্স-রে মেশিন বিকল রয়েছে। অন্যান্য যন্ত্রপাতি সচল থাকলেও দ্রুত সময়ের মধ্যে এক্স-রে মেশিন মেরামতের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করা হয়েছে। একজন অ্যানেস্থেসিয়ান নিয়োগ দেওয়া হলে অপারেশন থিয়েটার চালু করা সম্ভব হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এমপি রুহুল আমিন বলেন, বর্তমানে ৩১ শয্যার জনবল দিয়ে ৫০ শয্যার হাসপাতাল পরিচালনা করতে হচ্ছে। সংযুক্তিতে থাকা জনবল ফিরিয়ে আনা অথবা শূন্য পদগুলো পূরণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি চিকিৎসকদের প্রতি অযথা রোগী রেফার না করার আহ্বান জানান এবং স্থানীয় পর্যায়েই সেবা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন।
এ সময় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) শ্যামল কুমার, আবাসিক মেডিকেল অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মোস্তাফিজুর রহমান সুজনসহ অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জীবননগর উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা সাজেদুর রহমান, নায়েবে আমির সাখাওয়াত হোসেন, সেক্রেটারি মাফুজুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি আবু বক্কর, পৌর আমির ফিরোজ হোসেন, উপজেলা যুব জামায়াতের সভাপতি মাজেদুর রহমান লিটন ও পৌর সেক্রেটারি আরিফ জোয়ার্দ্দার।
সিএ/এমআর


