ঋতুরাজ বসন্তের আগমনে নানা প্রজাতির ফুলে সেজে উঠেছে কুমিল্লা সার্কিট হাউসের প্রাঙ্গণ। চারদিকে রঙের উচ্ছ্বাস, মৃদু বাতাসে ভেসে আসছে ফুলের সুবাস। এক ফুল থেকে অন্য ফুলে উড়ছে মৌমাছি, দেখা মিলছে বাহারি রঙের প্রজাপতিরও। প্রকৃতির এমন মনোমুগ্ধকর দৃশ্য উপভোগ করতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা।
শুক্রবার (২১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সরেজমিনে সার্কিট হাউসের সামনে গিয়ে দেখা যায়, মূল ফটক দিয়ে প্রবেশ করলেই ছয়তলা ভবনের সামনে লাল, হলুদ, সাদা, বেগুনি ও কমলা রঙের ফুলের সমাহার চোখে পড়ে। সারি সারি ফুটে থাকা গোলাপ ও সূর্যমুখীর পাশাপাশি নান্দনিক পরিকল্পনায় রোপণ করা হয়েছে অন্তত ১৫ থেকে ২০ প্রজাতির বিদেশি ফুলগাছ। বর্তমানে প্রায় প্রতিটি গাছেই ফুটেছে ফুল, যা পুরো প্রাঙ্গণকে রূপ দিয়েছে এক বর্ণিল উদ্যানের।
পরিপাটি বাগানজুড়ে ফুটে আছে চায়না গাঁদা, ডালিয়া, চায়না কসমস, গ্লাডিওলাস, সেলোসিয়া, কাঁটা মোগরা, গাজানিয়া, সূর্যমুখী, ইনকা, এন্টার, প্রিটুনিয়া, ক্যালেন্ডুলা ও সিলভিয়াসহ বিভিন্ন প্রজাতির ফুল। সুশৃঙ্খল পরিচর্যা ও পরিকল্পিত রোপণের কারণে বাগানটি যেন হয়ে উঠেছে নান্দনিকতার এক অনন্য উদাহরণ।
কুমিল্লা সার্কিট হাউস মূলত রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সফরকালীন আবাসস্থল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। মন্ত্রী, উপদেষ্টা, প্রতিমন্ত্রী, সাংবিধানিক পদাধিকারী ব্যক্তি, সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও বিভিন্ন সংস্থার গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের জন্য এটি নির্ধারিত। পাশাপাশি সরকারি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আয়োজন ও অতিথি আপ্যায়নের কেন্দ্র হিসেবেও ভবনটি ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
বাগান দেখতে আসা নগরীর কালিয়াজুড়ি এলাকার মো. জাকারিয়া ভূঁইয়া বলেন, এমন নান্দনিক বাগান কুমিল্লার আর কোনো সরকারি অফিসে রয়েছে বলে আমার জানা নেই। পুরো সার্কিট হাউস ফুলের গন্ধে সুবাসিত। বাগানে এসে ফুলের সঙ্গে ছবি তুলেছি। বাগান ও ফুলগাছের ক্ষতি না করে এখানে অনেকেই আসেন ছবি তুলতে। বাহারি রঙের এসব ফুল দেখলে মন প্রাণবন্ত ও সজীব হয়ে উঠে।
সার্কিট হাউসের নাজির মো. সুমন মিয়া বলেন, সার্কিট হাউসের বাগানে ১৫ থেকে ২০ প্রজাতের বিদেশি ফুলের গাছ রয়েছে। প্রত্যেকটি ফুলের গাছে বাহারি রঙের ফুল ফুটেছে। প্রায় প্রতিদিনই অনেক দর্শনার্থীকে ফুলের সঙ্গে ছবি তুলতে দেখা যায়। এই বাগান দেখাশোনা করার জন্য দুইজন মালি রয়েছে। তারা প্রতিদিন বাগানের পরিচর্চা করেন। এখন বসন্ত। পুরো সার্কিট হাউস প্রাঙ্গণে ফুলের ঘ্রাণ ছড়িয়ে পড়ছে, এ এক অন্যরকম অনুভূতি।
বাগানের মালি দ্বীন মোহাম্মদ ও মাসুম জানান, বসন্তের শুরুতেই গাছে গাছে ফুল ফুটতে শুরু করেছে। সার্কিট হাউসে সর্বসাধারণের প্রবেশ সীমিত হলেও বাগানের বাহারি ফুল দেখতে অনেকেই আসেন। নিয়মিত পরিচর্যার মাধ্যমে গাছগুলো সুস্থ ও সতেজ রাখা হয়।
কুমিল্লা নেজারত ডেপুটি কালেক্টর আব্দুল্লাহ আল নূর আশেক বলেন, সার্কিট হাউসের সামনের অংশে বিভিন্ন জাতের বিদেশি ফুলগাছ রোপণ করা হয়েছে, যা অল্প সময়েই ফুলে ভরে উঠেছে। বাগানের বাহারি রঙ আর বর্ণিল ফুলের সমারোহ যে কাউকে বিমোহিত করবে।
সিএ/এএ


