মানুষের বাইরে প্রথমবারের মতো অন্য একটি প্রাণীর মধ্যে কল্পনার সক্ষমতার প্রমাণ পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। গবেষণায় দেখা গেছে, মানুষের নিকটাত্মীয় বোনোবো প্রজাতির শিম্পাঞ্জি ‘কাল্পনিক বা রূপক খেলা’তে অংশ নিতে পারে, যা এতদিন কেবল মানুষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ বলে ধারণা করা হতো।
৫ ফেব্রুয়ারি বিজ্ঞান সাময়িকী সায়েন্সে প্রকাশিত এক গবেষণায় জানানো হয়, কাঞ্জি নামের একটি বোনোবো দুই বছর বয়সী মানব শিশুর মতোই কাল্পনিক চা-চক্রের সময় অদৃশ্য জুস ও আঙুরের অবস্থান সঠিকভাবে শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছে। ইংরেজি ভাষা বুঝতে পারার দক্ষতার জন্য কাঞ্জি আগেই গবেষকদের কাছে পরিচিত ছিল।
২০২৫ সালের মার্চে মারা যাওয়া কাঞ্জি নিজে থেকে এই ধরনের খেলা শুরু না করলেও গবেষণায় অংশ নিয়ে প্রমাণ করেছে, বাস্তবে নেই এমন বস্তু বা পরিস্থিতি কল্পনা করার ক্ষমতা তার ছিল। গবেষণার সহলেখক জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইকোলজিক্যাল অ্যান্ড ব্রেইন সায়েন্সেস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ক্রিস্টোফার ক্রুপেনিয়ে বলেন, মানুষের বিকাশের শুরুর দিকেই যে বৈশিষ্ট্যটি দেখা যায়, সেটিই আমাদের নিকটতম আত্মীয় প্রাণীদের মধ্যেও বিদ্যমান—এটি সত্যিই বিস্ময়কর।
গবেষকদের মতে, এই সক্ষমতার উৎপত্তি প্রায় ৬০ লাখ বছর আগে, যখন মানুষ ও বোনোবোর পূর্বপুরুষরা আলাদা পথে বিবর্তিত হয়। গবেষণায় কাঞ্জিকে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন পরীক্ষার মাধ্যমে যাচাই করা হয়। প্রশিক্ষণ পর্বে সে টানা ১৮ বার সঠিকভাবে জুসের অবস্থান শনাক্ত করে। মূল পরীক্ষায় কাল্পনিক জুস ও আঙুরের ক্ষেত্রেও সে উল্লেখযোগ্য হারে সঠিক উত্তর দেয়, যা তার কল্পনাশক্তির সক্ষমতার ইঙ্গিত দেয়।
গবেষণাটি একটিমাত্র বোনোবোর ওপর পরিচালিত হওয়ায় সীমাবদ্ধতা থাকলেও গবেষকরা মনে করছেন, এটি বৃহৎ বানরজাতীয় প্রাণীদের মধ্যে কল্পনাশক্তি নিয়ে ভবিষ্যৎ গবেষণার নতুন দ্বার খুলে দেবে।
সিএ/এমআর


