ভেনেজুয়েলার নতুন অন্তর্বর্তী সরকার সদ্য পাস হওয়া ক্ষমা আইনের অধীনে ৩৭৯ জন রাজনৈতিক বন্দিকে সাধারণ ক্ষমা দিয়েছে। দেশটির জাতীয় সংসদের একজন আইনপ্রণেতা জানিয়েছেন, কয়েক বছরের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সংঘাতের প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) ক্ষমতাসীন দল–নিয়ন্ত্রিত ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি ক্ষমা বিল অনুমোদন করে। পরে অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ আইনটিতে স্বাক্ষর করেন। এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির প্রেসিডেন্ট উপস্থিত ছিলেন। সরকারের দাবি, নতুন এই আইন গণতান্ত্রিক সহাবস্থান ও জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠার সুযোগ তৈরি করবে।
আইন অনুসারে, ১৯৯৯ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক সংঘর্ষ বা বিক্ষোভ চলাকালে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রসূত সহিংসতার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিদের সাধারণ ক্ষমা প্রদান করা হবে। বিরোধীদল, মানবাধিকারকর্মী, সাংবাদিকসহ বহু মানুষ এ আইন থেকে উপকৃত হবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ভেনেজুয়েলার বন্দিদের নিয়ে কাজ করা সংগঠন ফোরো পেনাল–এর হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের ৮ জানুয়ারি মার্কিন হামলা ও প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর অপহরণের ঘটনার পর থেকে এ পর্যন্ত ৪৪৮ জন রাজনৈতিক বন্দিকে মুক্তি দেয়া হয়েছে। তবে এখনও ৬০০–এর বেশি রাজনৈতিক বন্দি বিভিন্ন কারাগারে রয়েছে।
আইনটি পাস হওয়ার পরই ৩৭৯ জন রাজনৈতিক বন্দির মুক্তির ঘোষণা আসে। মুক্তির প্রক্রিয়া দেখভাল করা আইনপ্রণেতা জর্হে আরেইজা শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) জানান, সাধারণ ক্ষমা পাওয়া ব্যক্তিদের অধিকাংশকে রাত থেকে পরদিন সকাল পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে মুক্তির জন্য সংশ্লিষ্ট আদালতে আবেদন করা হয়েছে।
তবে বিরোধী নেতারা এই আইনের সমালোচনা করেছেন। তাদের অভিযোগ, আইনটিতে কিছু অপরাধ বাদ রাখা হয়েছে, যেগুলো অতীতে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর সরকার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে লক্ষ্য করে ব্যবহার করেছিল। আইন অনুযায়ী, বিদেশি শক্তির হয়ে ভেনেজুয়েলার সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে সশস্ত্র বা জোরপূর্বক কর্মকাণ্ডে উসকানি বা সহায়তার অভিযোগে অভিযুক্তরা এই সুবিধার আওতায় পড়বে না।
অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ বিরোধী নেতা মারিয়া করিনা মাচাদোর বিরুদ্ধেও এমন অভিযোগ এনেছেন। তিনি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন এবং ভবিষ্যতে ভেনেজুয়েলায় ফেরার আশার কথা জানিয়েছেন। এছাড়া সন্ত্রাসবাদ–সংক্রান্ত অপরাধে দোষী সাব্যস্ত নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরাও এই আইনের সুবিধা পাবেন না। জর্জ আজারিয়া জানিয়েছেন, এসব মামলার বিচার সামরিক আদালতেই চলবে এবং প্রয়োজন হলে সেখানে আলাদা সুবিধা দেয়া হবে।
সিএ/এসএ


