রাত গভীর হলেই অনেক মানুষের মাথার ভেতর চিন্তার ঝড় শুরু হয়। বালিশে মাথা রাখার পর সারাদিনের ভুল, অপূর্ণতা, নানা ঘটনা আর আগামী দিনের অনিশ্চয়তা নিয়ে অতিরিক্ত বিশ্লেষণে ঘুম আসতে চায় না। মানসিক অস্থিরতা ও অবিরাম চিন্তার এই প্রবণতাকে মনোবিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় রুমিনেশন, যা ঘুমের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘুমের সময় মস্তিষ্কের ফ্রন্টাল কর্টেক্স অংশ পুরোপুরি বিশ্রামে যেতে পারে না বলেই এমনটি ঘটে। ক্যাফেইন, দুশ্চিন্তা ও মানসিক চাপ এই সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে তোলে। ফলে মস্তিষ্ক পিনবল মেশিনের মতো এক চিন্তা থেকে আরেক চিন্তায় ছুটতে থাকে।
এই সমস্যা মোকাবিলায় মনোবিজ্ঞানী ড. লুক বিউডোইন একটি কৌশলের কথা বলেছেন, যার নাম কগনিটিভ সাফলিং। এটি ঘুমের আগের সেই তন্দ্রাচ্ছন্ন অবস্থাকে কাজে লাগায়, যখন মানুষ পুরোপুরি জাগ্রতও নন, আবার ঘুমিয়েও পড়েননি। এ অবস্থায় মস্তিষ্ক স্বাভাবিকভাবেই অসংলগ্ন ভাবনা ও কল্পচিত্র তৈরি করে।
ড. বিউডোইন বলেন, “ঘুম হুট করেই চলে আসে না, ধাপে ধাপে এগোয়। এ সময় আপনার বিভিন্ন চিন্তাভাবনার মধ্যে কোনো যোগসূত্র থাকে না।” কগনিটিভ সাফলিংয়ের উদ্দেশ্য হলো চিন্তাগুলোকে হালকা ও অসংলগ্ন কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসা, যাতে দুশ্চিন্তার জায়গা না থাকে।
এই কৌশলে একটি শব্দ বেছে নিয়ে তার প্রতিটি অক্ষর দিয়ে শুরু হয় এমন ভিন্ন ভিন্ন জিনিস কল্পনা করতে বলা হয়। প্রতিটি জিনিস কয়েক সেকেন্ড কল্পনা করার পর পরবর্তী অক্ষরে যাওয়া হয়। এতে মস্তিষ্ক এমন কাজে ব্যস্ত থাকে, যা অনাকাঙ্ক্ষিত দুশ্চিন্তাকে দূরে সরিয়ে দেয় এবং ধীরে ধীরে ঘুমের দিকে নিয়ে যায়।
বিউডোইনের ভাষায়, “আমরা চাই আপনার মস্তিষ্ক যেন ভিন্ন ভিন্ন বিষয় নিয়ে ভাবে। কারণ আপনি যখন স্বাভাবিকভাবে ঘুমানোর প্রক্রিয়ায় থাকেন মস্তিষ্ক তখন ঠিক এ কাজটিই করে।”
সিএ/এমআর


