সকাল ১০টা, কলাতলী সৈকত। এক কিলোমিটারজুড়ে সাজানো পাঁচ শতাধিক চেয়ার-ছাতা, অথচ সৈকতে পর্যটকের সংখ্যা মাত্র পাঁচ। ঢেউ ভাঙছে, বাতাস বইছে, কিন্তু পানিতে নামার কেউ নেই। দূরে একটি জেটস্কি ভেসে আছে, চালক অপেক্ষায়, যাত্রী নেই।
গতকাল শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত কলাতলীর উত্তর দিকের সুগন্ধা, সিগাল ও লাবণী পয়েন্টেও একই দৃশ্য। পাঁচ কিলোমিটার সৈকতজুড়ে পর্যটক কম থাকায় অন্তত তিন হাজার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান স্থবির হয়ে পড়েছে। কয়েকশো ভ্রাম্যমাণ আলোকচিত্রী ক্যামেরা হাতে বসে আছেন, ৩৫টি ঘোড়া অলস দাঁড়িয়ে, শতাধিক বিচ-বাইক সারিবদ্ধ। শামুক-ঝিনুক ও সামুদ্রিক পণ্যের দেড় শতাধিক দোকানও খালি।
কয়েক দিন আগের পরিস্থিতি ভিন্ন ছিল। ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর ১৩ ও ১৪ ফেব্রুয়ারি কলাতলী থেকে লাবণী পয়েন্ট পর্যন্ত সৈকতে দেড় লাখের বেশি পর্যটক উপস্থিত ছিলেন। রমজানে হোটেল-রিসোর্টগুলোতে সর্বাধিক ৬০ শতাংশ ছাড় ঘোষণা করা হয়। দুই হাজার টাকার শীতাতপনিয়ন্ত্রিত কক্ষ ৮০০ টাকায় ভাড়া দেওয়া হচ্ছে।
তবুও ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে সৈকত প্রায় পর্যটকশূন্য। কক্সবাজার হোটেল-রিসোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুকিম খান জানান, রমজানে পর্যটক কম আসে। বৃহস্পতিবার শহরের হোটেলগুলোতে ছিল প্রায় তিন হাজার অতিথি, শুক্রবার তা সাড়ে তিন হাজারে পৌঁছলেও শনিবার থেকে সংখ্যা এক হাজার বা দেড় হাজারে নেমে যেতে পারে। বর্তমানে পাঁচ শতাধিক হোটেল, রিসোর্ট, গেস্টহাউস ও কটেজের ৯৫ শতাংশ কক্ষ খালি।
পর্যটকের কম উপস্থিতির কারণে সড়কও ফাঁকা। নির্জন সৈকতে বসে সমুদ্রের ঢেউ দেখছিলেন ঢাকার মিরপুরের সুজা উদ্দিন ও তাঁর স্ত্রী কামরুন নাহার। তারা সৈকত সংলগ্ন একটি তারকা হোটেলে অবস্থান করছেন। সুজা উদ্দিন বলেন, রমজানে অনেকেই অফিস ও বাসার ব্যস্ততায় ঘুরতে আসেন না, তবে পরিবারসহ প্রকৃতির কাছে আসার এটি একটি সুন্দর সুযোগ।
তবে নির্জনতায় ভোগান্তিও আছে। সুগন্ধা, সিগাল ও লাবণি পয়েন্টের দোকানপাট ও রেস্তোরাঁ বন্ধ থাকায় পর্যটক খাবার সংকটে পড়ছেন। কুমিল্লার দেবীদ্বারের ব্যবসায়ী সৈয়দুল কবির জানান, পরিবেশ ভালো হলেও খাবারের দোকান বন্ধ থাকার কারণে শিশুদের সঙ্গে সমস্যা হচ্ছে। শহরের সাত শতাধিক রেস্তোরাঁর মধ্যে সৈকত এলাকায় ভাজা মাছসহ খাবার বিক্রির প্রায় ৩০০ ভ্রাম্যমাণ ভ্যানও বন্ধ। কলাতলী হোটেল-মোটেল জোনে কেএফসি, পিৎজাহাটসহ কিছু রেস্তোরাঁ খোলা আছে, বিকেলে ইফতারসামগ্রী বিক্রি চলছে।
কক্সবাজার হোটেল-গেস্টহাউস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার জানান, রমজানে দীর্ঘদিনের চর্চা অনুযায়ী কর্মচারীদের ছুটি দেওয়া হয়। এই বছর ৫০ হাজার কর্মীর মধ্যে প্রায় ৩২ হাজারকে অগ্রিম বেতন-ভাতা দিয়ে ছুটি দেওয়া হয়েছে। অবশিষ্ট কর্মীরা সীমিত পরিসরে হোটেল-রেস্তোরাঁ দেখাশোনা করছেন। অনেক প্রতিষ্ঠানে চলছে সংস্কার ও রঙের কাজ। ব্যবসায়ীদের আশা, ঈদুল ফিতরের দ্বিতীয় দিন থেকে পর্যটকের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে এবং সৈকত ও হোটেলগুলোর ব্যস্ততা ফিরে আসবে।
সিএ/এমই


