ময়মনসিংহে ব্রহ্মপুত্র নদে ঘুরতে গিয়ে ছিনতাইকারীদের কবলে পড়া আনন্দ মোহন কলেজের দুই শিক্ষার্থীর মধ্যে একজনের মরদেহ দুই দিন পর উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, মৃত শিক্ষার্থীর নাম নুরুল্লাহ শাওন (২৬)। তিনি আনন্দ মোহন কলেজের রসায়ন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন। শুক্রবার রাত পৌনে ১১টার দিকে ময়মনসিংহ শহরের জয়নুল আবেদিন উদ্যান এলাকায় ব্রহ্মপুত্র নদে ভেসে আসে তাঁর লাশ।
পুলিশ ও সহপাঠী সূত্রে জানা গেছে, বুধবার বিকেলে নুরুল্লাহ শাওন ও বন্ধু মঞ্জুরুল আহসান (রিয়াদ) নদপারের দিকে বেড়াতে যান। সন্ধ্যা ছয়টার দিকে সাতজনের একটি কিশোর ছিনতাইকারী দল তাদের ঘিরে ধরে সব কিছু দিতে বললে দুই বন্ধু মারধরের শিকার হন। নুরুল্লাহ প্রতিবাদ করলে তাকে বেধরক মারধর করা হয়। বন্ধু মঞ্জুরুল নদে সাঁতরে পার হতে সক্ষম হলেও শাওন নিখোঁজ হন।
পরবর্তী সময়ে স্থানীয়রা ও বন্ধুদের মাধ্যমে থানা পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার সকালে ব্রহ্মপুত্র পাড়ে শাওনের ব্যাগ ও জুতা পাওয়া যায়। পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল নদে অনুসন্ধান চালিয়েও প্রথমে শাওনের সন্ধান পাননি। শুক্রবার রাত পৌনে ১১টার দিকে নৌকার মাঝিরা নদের চরে তাঁর মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠায়।
নিখোঁজ শিক্ষার্থীর সহপাঠী ও বন্ধুদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। নিহতের বন্ধু শোয়াইব আক্তার বলেন, ‘আমার দুই বন্ধু ছিনতাইকারীদের হাতে পড়েন। একজন নদে সাঁতরে পার হলেও শাওনকে পাইনি। আমরা একজনকে ধরে সব তথ্য পুলিশকে দিয়েছি, কিন্তু এখনও বিচার হয়নি।’
ঘটনার পর বৃহস্পতিবার বিকেলে নিহতের মা সাহিদা বেগম কোতোয়ালি মডেল থানায় সাতজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় তিন-চারজনকে আসামি করে অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযুক্তদের বয়স ১৩ থেকে ১৬ বছরের মধ্যে। ইতিমধ্যেই একজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাজমুস সাকিব জানান, লাশ উদ্ধার করা হয়েছে এবং বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলমান।
সিএ/এমই


