সমুদ্রপথে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে মিয়ানমারে সিমেন্ট পাচারের অভিযোগে ইঞ্জিনচালিত দুটি নৌযান জব্দ করেছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। এ সময় ১ হাজার ১৫০ বস্তা সিমেন্টসহ মোট ১৯ জনকে আটক করা হয়। বৃহস্পতিবার সেন্ট মার্টিন দ্বীপসংলগ্ন বঙ্গোপসাগর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করা হয়।
শুক্রবার ( ৫ ডিসেম্বর) আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, সমুদ্রসীমার সার্বভৌমত্ব রক্ষা, সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সমুদ্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নৌবাহিনী নিয়মিত টহল কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এরই ধারাবাহিকতায় সেন্ট মার্টিন ও তৎসংলগ্ন এলাকায় টহল জোরদার করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সেন্ট মার্টিন বাতিঘর থেকে প্রায় ৩৮ মাইল দূরে নৌবাহিনীর টহল জাহাজ ‘প্রত্যাশা’ একটি সন্দেহজনক নৌযান শনাক্ত করে। জাহাজ থেকে থামার সংকেত দেওয়া হলে নৌকাটি পালানোর চেষ্টা করে। পরে ধাওয়া করে ‘এফবি সীমান্ত’ নামের নৌযানটি জব্দ করা হয়। তল্লাশি চালিয়ে ওই নৌকা থেকে ৪৫০ বস্তা সিমেন্ট, ২৫০ কেজি ডাল-চানা, ১৬০ কেজি আদা এবং ৩৬০ বোতল এনার্জি ড্রিংক উদ্ধার করা হয়।
একই এলাকায় পৃথক অভিযানে সন্দেহজনকভাবে চলাচলরত ‘এফবি সুরভি’ নামের আরও একটি মাছ ধরার নৌকা জব্দ করা হয়। এ নৌকায় তল্লাশি চালিয়ে ৭০০ বস্তা সিমেন্ট উদ্ধার করা হয়। দুটি নৌযান থেকেই চোরাকারবারি দলের ১৯ সদস্যকে আটক করা হয়েছে।
আটক ব্যক্তিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে আইএসপিআর জানায়, অধিক মুনাফার আশায় সিমেন্টগুলো মিয়ানমারে পাচারের পরিকল্পনা ছিল। জব্দ করা মালামাল ও আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নৌবাহিনীর ফরোয়ার্ড বেস সেন্ট মার্টিনে হস্তান্তর করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, সমুদ্র ও উপকূলীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা বজায় রাখা, মাদক ও চোরাচালান দমন এবং অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে নৌবাহিনীর টহল ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সিএ/এমই


