জিন শব্দের অর্থ হলো গোপন বা অদৃশ্য সত্তা। ইসলামি বিশ্বাস অনুযায়ী, জিন আল্লাহতায়ালার অন্যতম সৃষ্টি, যাদের সৃষ্টি হয়েছে উত্তপ্ত অগ্নিশিখা থেকে। তাদের বিবেক, বুদ্ধি ও ভালো-মন্দ বোঝার ক্ষমতা রয়েছে। কোরআনে উল্লেখ আছে, জিনদের মধ্যেও সৎ ও অসৎ উভয় শ্রেণি বিদ্যমান।
ইসলামি আকিদা অনুযায়ী, জিনের অস্তিত্বে বিশ্বাস করা ঈমান বিল গায়েবের অন্তর্ভুক্ত। পবিত্র কোরআনে বহুবার জিনদের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এমনকি ‘সুরা জিন’ নামে একটি পূর্ণাঙ্গ সুরাও নাজিল হয়েছে। হজরত সোলায়মান (আ.)-এর আমলে জিনদের বিভিন্ন কাজে নিয়োজিত থাকার কথাও কোরআনে বর্ণিত আছে।
প্রশ্ন হলো, জিনেরা কি মানুষের মতো মৃত্যুবরণ করে। আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের বিশ্বাস অনুযায়ী, জিনেরা মৃত্যুবরণ করে। হাদিসে এসেছে, ‘হে আল্লাহ! আপনি চিরঞ্জীব, যিনি কখনো মৃত্যুবরণ করেন না। অথচ মানুষ ও জিন মৃত্যুবরণ করে।’
তবে জিনদের মৃত্যুর ধরন মানুষের মৃত্যুর মতো নাও হতে পারে। বিভিন্ন বর্ণনায় বলা হয়েছে, আগুনে পুড়ে, রোগে আক্রান্ত হয়ে, লড়াইয়ে কিংবা সাগরে ডুবে জিনদের মৃত্যু হতে পারে। তারা যেহেতু বিভিন্ন আকৃতি ধারণ করতে পারে, তাই ধারণকৃত আকৃতিতেও তাদের মৃত্যু ঘটে।
শয়তানও জিনজাতির অন্তর্ভুক্ত হলেও তাকে কেয়ামত পর্যন্ত জীবন দেওয়া হয়েছে। এই বিশেষ সুযোগ অন্য কোনো জিনকে দেওয়া হয়নি। মৃত জিনদের দাফনের বিষয়টি মানুষের অজানা হলেও ইসলামি বিধান অনুযায়ী তাদের ক্ষেত্রেও একটি নির্দিষ্ট নিয়ম বিদ্যমান বলে বিশ্বাস করা হয়।
সিএ/এমআর


