সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক নেতা, জনপরিচিত ব্যক্তি কিংবা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে ধর্মীয় বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে বিতর্কে জড়াতে দেখা যাচ্ছে। অজ্ঞতাবশত বা অসতর্ক বক্তব্যের কারণে অনেক সময় সামাজিক অস্থিরতা, মামলা কিংবা সহিংস পরিস্থিতিরও সৃষ্টি হচ্ছে। ধর্মীয় বিষয় নিয়ে প্রচার বা বক্তব্যে ভুল ব্যাখ্যা সমাজে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।
বাংলাদেশসহ উপমহাদেশের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, ধর্মীয় বিষয়ে ভুল উচ্চারণ কিংবা ভুল উপস্থাপনা বড় ধরনের বিশৃঙ্খলার জন্ম দিতে পারে। এই বাস্তবতায় সমাজের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের জন্য শরিয়া উপদেষ্টা থাকা সময়ের দাবি হয়ে উঠেছে। এসব উপদেষ্টা ধর্মীয় বিষয়ে সঠিক দিকনির্দেশনা দিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে সহায়তা করতে পারেন।
ইসলামের মূল ভিত্তি কোরআন ও হাদিস। এসবের আলোকে গঠিত বিধানসমষ্টিকেই শরিয়া আইন বলা হয়। যদিও শরিয়া আইন বাস্তবায়নের জন্য নির্দিষ্ট শাসনব্যবস্থা প্রয়োজন, তবুও মুসলমানদের দৈনন্দিন জীবনের নানা ক্ষেত্রে শরিয়ার নির্দেশনা কার্যকর রয়েছে। নামাজ, রোজা, হজ, জাকাতসহ বিভিন্ন ইবাদতে মুসলমানরা আলেমদের পরামর্শ গ্রহণ করেন।
এই বাস্তবতায় প্রত্যেক মুসলমানই পরোক্ষভাবে একজন শরিয়া উপদেষ্টার ওপর নির্ভরশীল। কোরআন ও হাদিসে পারদর্শী আলেমরাই মূলত এই ভূমিকা পালন করে থাকেন। হাদিসে আলেমদের নবীদের উত্তরাধিকারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যারা জ্ঞান বিতরণ করেন।
আলেম শব্দটি আরবি ভাষায় জ্ঞানী ও বিদ্বান অর্থে ব্যবহৃত হলেও প্রচলিত অর্থে ইসলামি জ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তিকেই আলেম বলা হয়। কোরআন, হাদিস, ফিকহ ও তাফসিরে পারদর্শীরাই প্রকৃত অর্থে ধর্মীয় বিষয়ে বিশেষজ্ঞ হিসেবে বিবেচিত।
নৈতিকতা, আত্মশুদ্ধি ও সুশিক্ষার মাধ্যমে সমাজে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় আলেমদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। দুর্নীতি, সহিংসতা ও অনাচারমুক্ত সমাজ গঠনে তাদের পরামর্শ কার্যকর অবদান রাখে। তাই রাষ্ট্রীয় ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, পাশাপাশি নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের জন্য শরিয়া উপদেষ্টা নিয়োগ করা সময়োপযোগী ও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সিএ/এমআর


