ফিটকিরি বললেই বেশিরভাগ মানুষের মনে প্রথমেই ভেসে ওঠে পানি পরিশোধনের কথা। দীর্ঘদিন ধরে ঘরোয়া উপায়ে পানি পরিষ্কারে এই উপাদানটি ব্যবহৃত হয়ে আসছে। তবে ফিটকিরির ব্যবহার এখানেই সীমাবদ্ধ নয়। দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় ত্বক, মুখের স্বাস্থ্য এবং ছোটখাটো শারীরিক সমস্যার সমাধানেও এর বহুমুখী প্রয়োগ রয়েছে।
ত্বকের ব্রণ শুকাতে ফিটকিরি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। পরিষ্কার ত্বকের ওপর অল্প করে ফিটকিরি ঘষে নিলে ব্রণ দ্রুত শুকাতে সহায়তা করে বলে অনেকেই মনে করেন। তবে সংবেদনশীল ত্বকের ক্ষেত্রে ব্যবহারের আগে সতর্কতা জরুরি।
মুখের দুর্গন্ধ দূর করতেও ফিটকিরি ব্যবহার করা হয়। পানিতে সামান্য ফিটকিরি মিশিয়ে কুলকুচি করলে মুখের জীবাণু কমতে পারে এবং দুর্গন্ধ হ্রাস পায়। একইভাবে মুখের ভেতরে ঘা হলে অল্প পরিমাণ ফিটকিরি আক্রান্ত স্থানে লাগানো যেতে পারে। এতে সাময়িক জ্বালাপোড়া হলেও ঘা দ্রুত শুকাতে সহায়তা করতে পারে।
ত্বকের যত্নে ফিটকিরির ব্যবহারও বেশ প্রচলিত। অনেকেই রাতে ঘুমানোর আগে হালকা করে ফিটকিরি মুখে ঘষে ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে নেন। এরপর ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করলে ত্বক সতেজ থাকতে পারে বলে ধারণা করা হয়।
এ ছাড়া ফিটকিরির গুঁড়া ও পানি মিশিয়ে মাথার তালুতে ব্যবহার করলে উকুন কমাতে সহায়তা করতে পারে। পায়ের শিরায় টান বা ব্যথা হলে ফিটকিরি, হলুদ ও পানি মিশিয়ে তৈরি পেস্ট ব্যথার স্থানে লাগিয়ে সাময়িক স্বস্তি পাওয়ার কথাও বলা হয়।
তবে বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, ফিটকিরি ব্যবহারের আগে ত্বকের ছোট অংশে পরীক্ষা করে নেওয়া উচিত। অতিরিক্ত বা দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারে ত্বক শুষ্ক কিংবা সংবেদনশীল হয়ে যেতে পারে। গুরুতর সমস্যায় অবশ্যই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া প্রয়োজন।
সিএ/এমআর


