সারাদিন সিয়াম সাধনার পর সূর্যাস্তে রোজা ভঙ্গ করার খাবার ও পানীয়কে ইফতার বলা হয়। ইফতার শুধু ক্ষুধা নিবারণের বিষয় নয়, এটি সুন্নত, বরকতময় ইবাদত এবং মুসলিম সমাজের ঐতিহ্যবাহী অনুষঙ্গ।
রমজান মাসজুড়ে শহর, গ্রাম, অলিগলি ও বাজারে ইফতারির সমাহার দেখা যায়। মসজিদের মিনার থেকে মাগরিবের আজান বা ইফতারের সাইরেন বাজলে চারপাশে এক অনন্য আবহ সৃষ্টি হয়। পরিবারগুলো প্রতিবেশীদের ইফতারি পাঠায়, যা পারস্পরিক ভালোবাসা ও সৌহার্দ্য বৃদ্ধি করে।
ইফতার কেবল উপমহাদেশেই নয়, বৈশ্বিক পরিমণ্ডলেও মুসলিম ঐতিহ্যের অংশ। বিভিন্ন দেশে রাষ্ট্রীয় ও কূটনৈতিক ইফতার মাহফিল হয়। UNESCO ২০২৩ সালে ইফতারকে বিশ্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের স্বীকৃতি দিয়েছে।
হাদিসে ইফতারের ফজিলত উল্লেখ আছে। Abu Huraira (রা.) থেকে বর্ণিত, Muhammad (সা.) বলেছেন, “রোজাদারের জন্য দুটি আনন্দ রয়েছে—একটি ইফতারের সময়, অন্যটি তার প্রভুর সঙ্গে সাক্ষাতের সময়।” (তিরমিজি) এছাড়া, “যে ব্যক্তি কোনো রোজাদারকে ইফতার করাবে, সে রোজাদারের সমান সওয়াব পাবে।” (তিরমিজি)
সারাদিনের সিয়াম শেষে ইফতার না শুধু ক্ষুধা মেটায়, বরং রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের এক মুহূর্ত এনে দেয়। এটি পরিবার ও সমাজে ভালোবাসা, সহমর্মিতা ও তাকওয়ার চেতনা জাগ্রত করে।
সিএ/এমআর


