ইসলামী চিন্তাবিদ ও বিজ্ঞ উলামায়ে কেরামের মতে মোবাইলে মিউজিকযুক্ত রিংটোন ব্যবহার করা নাজায়েজ বা নিষিদ্ধ। কারণ, গান ও বাদ্যযন্ত্র শোনা ইসলামী শরিয়তে হারাম হিসেবে বিবেচিত। সে কারণে রিংটোন হিসেবে মিউজিক ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকা উচিত বলে মত দিয়েছেন তারা।
কোরআনে কারিমে আল্লাহ তায়ালা বলেন, কিছু মানুষ অজ্ঞতা বশত আল্লাহর পথ থেকে মানুষকে বিচ্যুত করার জন্য অসার কথা ক্রয় করে এবং তা নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করে। তাদের জন্য রয়েছে লাঞ্ছনাকর শাস্তি। সূরা লোকমানের এই আয়াতের ব্যাখ্যায় প্রখ্যাত সাহাবি আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. ‘লাহওয়াল হাদিস’-এর অর্থ হিসেবে গান ও বাদ্যযন্ত্রের কথা উল্লেখ করেছেন।
এছাড়া মিউজিকযুক্ত রিংটোন ব্যবহারের আরেকটি বড় সমস্যা হলো, অসাবধানতাবশত তা মসজিদ বা কোনো দ্বীনি মজলিসে বেজে উঠতে পারে। এতে মসজিদের পবিত্রতা ও সম্মান ক্ষুণ্ন হয় এবং ইবাদতে বিঘ্ন ঘটে, যা শরিয়তসম্মত নয়। এ প্রসঙ্গে কোরআনে বলা হয়েছে, তার চেয়ে বড় জালেম আর কেউ নেই, যে আল্লাহর মসজিদগুলোতে তাঁর নাম স্মরণ করা থেকে বাধা দেয় এবং সেগুলো বিরান করার চেষ্টা করে।
এ কারণে ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে মিউজিকবিহীন রিংটোন ব্যবহার করাই উত্তম। নামাজের সময় মোবাইল ফোন সাইলেন্ট করে রাখারও নির্দেশনা দিয়েছেন উলামায়ে কেরাম।
তবে কেউ যদি ইচ্ছাকৃতভাবে মিউজিকযুক্ত রিংটোন ব্যবহার করে, তাহলে সে গোনাহগার হবে বলে মত দেওয়া হয়েছে। আর যদি মিউজিক ছাড়া অন্য কোনো রিংটোনের সুযোগ না থাকে এবং অনিচ্ছাকৃতভাবে মিউজিক শোনা হয়ে যায়, সে ক্ষেত্রে গোনাহ হবে না।
সবশেষে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে বলা হয়েছে, যতটা সম্ভব গান বা মিউজিকযুক্ত রিংটোন পরিহার করে ইসলামী শরিয়তের নির্দেশনা মেনে চলাই একজন মুসলমানের জন্য উত্তম।
সিএ/এমআর


