বাংলাদেশের নজরদারি প্রযুক্তির ইতিহাসে ২০১৫ থেকে ২০২৫ সালকে একটি গভীরভাবে বিতর্কিত ও সংকটপূর্ণ সময় হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই এক দশকে সরকার প্রায় ১৯০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের নজরদারি ও স্পাইওয়্যার প্রযুক্তি আমদানি করেছে বলে বিভিন্ন গবেষণা ও আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশ ব্যয় হয়েছে ইসরায়েলি উৎসের প্রযুক্তিতে, যদিও বাংলাদেশের সঙ্গে ইসরায়েলের কোনো আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। তৃতীয় দেশের মাধ্যমে জটিল ও অস্বচ্ছ পথে এসব লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এই সময়ে পেগাসাস, গ্রাফাইট, সেলেব্রাইট ইউএফইডি ও পি-৬ ইন্টারসেপ্টের মতো উন্নত স্পাইওয়্যার ব্যবহারের তথ্য সামনে আসে। এসব প্রযুক্তির মাধ্যমে শূন্য-ক্লিক আক্রমণ, এনক্রিপ্টেড মেসেজিং অ্যাপ হ্যাকিং, মোবাইল নেটওয়ার্কে অনুপ্রবেশ এবং ব্যক্তিগত ডেটা উদ্ধার ও বিশ্লেষণের সক্ষমতা অর্জন করে রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলো। গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব প্রযুক্তির মূল লক্ষ্যবস্তু ছিলেন রাজনৈতিক বিরোধী, সাংবাদিক, মানবাধিকার কর্মী ও প্রভাবশালী ব্যবসায়ীরা।
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর গঠিত অস্থায়ী সরকার জাতীয় টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টার বিলোপের সিদ্ধান্ত নেয়। একই সঙ্গে টেলিকমিউনিকেশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৫-এর মাধ্যমে ইন্টারনেট শাটডাউন নিষিদ্ধ, আদালতের অনুমতি ছাড়া ফোন ট্যাপিংকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ ঘোষণা এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার স্বাধীনতা পুনর্বিন্যাসের মতো সংস্কার আনা হয়। এসব পদক্ষেপকে ডিজিটাল অধিকার ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ পুনঃপ্রতিষ্ঠার পথে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভবিষ্যতে নজরদারি ব্যবস্থাকে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে হলে স্বাধীন তদারকি সংস্থা, বাধ্যতামূলক অডিট ব্যবস্থা এবং সংসদীয় ও বিচারিক নজরদারি নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রযুক্তি ব্যবহারের নীতিমালা প্রণয়ন না করলে অতীতের অপব্যবহারের পুনরাবৃত্তির ঝুঁকি থেকেই যাবে।
সিএ/এমআর


