কোভিড-১৯ মহামারি শেষ হয়েছে—এমন স্বস্তির মাঝেই চিকিৎসাবিজ্ঞানীদের সামনে উঠে আসছে নতুন উদ্বেগের বিষয় ‘লং কোভিড’। সাম্প্রতিক বিভিন্ন গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, কোভিড থেকে সেরে ওঠার পরও বহু মানুষ দীর্ঘদিন ধরে ভুগছেন নানা শারীরিক সমস্যায়। বিশেষ করে যাঁদের আগে কখনো অ্যালার্জি বা অ্যাজমা ছিল না, তাঁদের মধ্যেও নতুন করে এসব উপসর্গ দেখা দিচ্ছে।
চিকিৎসাবিষয়ক প্রভাবশালী সাময়িকী মেডস্কেপে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লং কোভিডে আক্রান্ত অনেক রোগীর শরীরে রোগ প্রতিরোধব্যবস্থায় দীর্ঘস্থায়ী পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এর ফলেই শ্বাসকষ্ট, হাঁচি-কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া, ত্বকে র্যাশ কিংবা অ্যাজমার মতো উপসর্গ নতুনভাবে দেখা দিচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কোভিড-১৯ কেবল শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ নয়; এটি পুরো ইমিউন সিস্টেমকে প্রভাবিত করতে পারে। ভাইরাস শরীর থেকে চলে গেলেও অনেকের রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা অতিরিক্ত সংবেদনশীল অবস্থায় থেকে যায়। ফলে ধুলাবালু, ফুলের রেণু, খাবার বা আবহাওয়ার সামান্য পরিবর্তনেও শরীর তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখায়। এই অবস্থাকেই নতুনভাবে সৃষ্ট অ্যালার্জি ও অ্যাজমার অন্যতম কারণ হিসেবে ধরা হচ্ছে।
মেডস্কেপের প্রতিবেদনে চিকিৎসকেরা উল্লেখ করেছেন, লং কোভিড রোগীদের মধ্যে অ্যাজমাসদৃশ শ্বাসকষ্ট দেখা যাচ্ছে, যা আগে কখনো ছিল না। কারও ক্ষেত্রে ইনহেলার ব্যবহারের প্রয়োজন হচ্ছে, আবার কারও ত্বকে র্যাশ বা খাবারে অ্যালার্জি তৈরি হচ্ছে। এসব উপসর্গ দীর্ঘদিন স্থায়ী হওয়ায় রোগীদের জীবনযাত্রার মানও ব্যাহত হচ্ছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, লং কোভিডে আক্রান্ত একটি উল্লেখযোগ্য অংশের মানুষের মধ্যে নতুন অ্যালার্জি তৈরি হচ্ছে অথবা পুরোনো অ্যালার্জির তীব্রতা বাড়ছে। গবেষকেরা ধারণা করছেন, কোভিড-১৯-এর কারণে শরীরে দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ এবং মাস্ট সেল অ্যাক্টিভেশন নামের একটি প্রক্রিয়া সক্রিয় থাকতে পারে, যা অ্যালার্জি ও অ্যাজমার ঝুঁকি বাড়ায়।
এই প্রেক্ষাপটে বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, কোভিড থেকে সেরে ওঠার পর নতুন করে শ্বাসকষ্ট, অ্যালার্জি বা অ্যাজমার উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। লং কোভিড এখন আর শুধু ক্লান্তি বা ব্রেন ফগের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; এটি ধীরে ধীরে দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসতন্ত্র ও অ্যালার্জিজনিত সমস্যার কারণ হয়ে উঠছে।
সিএ/এমআর


