এই সুবিশাল ও বিস্ময়কর মহাবিশ্ব কোনো দৈব ঘটনার ফল নয়; বরং এটি একজন মহান স্রষ্টার অসীম ক্ষমতা, সূক্ষ্ম পরিকল্পনা ও অপার প্রজ্ঞার জীবন্ত প্রকাশ। আসমান ও জমিনের সৃষ্টি, রাত ও দিনের আবর্তন, পাহাড়ের স্থিতিশীলতা, উদ্ভিদ ও প্রাণীর বৈচিত্র্য এবং মানুষের নিজস্ব গঠন—সবকিছুতেই স্রষ্টার শক্তি ও মহত্ত্বের স্পষ্ট নিদর্শন বিদ্যমান।
আসমান ও জমিনের সৃষ্টিতে আল্লাহর অসীম ক্ষমতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত পাওয়া যায়। তিনি সাত স্তরের আকাশ সৃষ্টি করেছেন সম্পূর্ণ ত্রুটিহীনভাবে, কোনো দৃশ্যমান স্তম্ভ ছাড়াই সেগুলোকে ধারণ করে রেখেছেন। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, আকাশের দিকে তাকালেই বোঝা যায়, সেখানে কোনো ফাটল বা অসম্পূর্ণতা নেই।
পৃথিবী সৃষ্টিতেও রয়েছে বিস্ময়কর বৈচিত্র্য। কোথাও অনুর্বর ভূমি, কোথাও উর্বর শস্যভরা জমি—অথচ সবই একই পানিতে সেচ দেওয়া হয়। ফল ও ফসলের স্বাদ, রং ও গুণে এই পার্থক্য স্রষ্টার কুদরতের স্পষ্ট প্রমাণ।
রাত ও দিনের পর্যায়ক্রমিক পরিবর্তনও আল্লাহর শক্তির এক উজ্জ্বল নিদর্শন। সূর্য ও চন্দ্র নির্ধারিত গতিপথে চলার মাধ্যমেই সৃষ্টি হয়েছে এই নিখুঁত শৃঙ্খলা ও ভারসাম্য, যা সৃষ্টিজগতের স্বাভাবিক জীবনধারাকে সচল রাখে।
পাহাড় সৃষ্টির মধ্যেও রয়েছে গভীর প্রজ্ঞা। পৃথিবীকে স্থিতিশীল রাখার জন্য আল্লাহ এতে সুদৃঢ় পাহাড় স্থাপন করেছেন, যাতে মানুষ ও অন্যান্য সৃষ্টি নিরাপদে বসবাস করতে পারে। একইভাবে নদী ও পথ সৃষ্টি করে মানুষের চলাচল সহজ করেছেন।
উদ্ভিদজগতের বৈচিত্র্যও স্রষ্টার অনন্য সৃষ্টি কৌশলের পরিচয় দেয়। অসংখ্য ফল, ফুল ও ফসল মানুষের খাদ্য, পশুপাখির আহার এবং পৃথিবীর সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে। প্রতিটি উদ্ভিদের রং, স্বাদ ও উপকারিতার ভিন্নতা আল্লাহর সৃষ্টির নিখুঁত সমন্বয়কে তুলে ধরে।
মানুষ সৃষ্টির প্রক্রিয়াও কোরআনে স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে। মাটি থেকে সৃষ্টির সূচনা, এরপর নির্দিষ্ট ধাপ পেরিয়ে পূর্ণাঙ্গ মানুষে রূপ নেওয়া—এই পুরো প্রক্রিয়া আল্লাহর নিখুঁত পরিকল্পনার সাক্ষ্য দেয়। শ্রবণশক্তি, দৃষ্টিশক্তি ও হৃদয় দান করে মানুষকে চিন্তা ও উপলব্ধির ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
প্রাণিজগতের মধ্যেও রয়েছে বিস্ময়কর বৈচিত্র্য। সবাই একই উপাদান থেকে সৃষ্টি হলেও তাদের চলনভঙ্গি, আকৃতি ও জীবনধারায় রয়েছে পার্থক্য, যা প্রত্যেক প্রাণীর পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
সুতরাং আকাশের বিস্তার থেকে পৃথিবীর গভীরে প্রোথিত পাহাড়, ক্ষুদ্র উদ্ভিদ থেকে বিচিত্র প্রাণী এবং মানুষের জটিল সৃষ্টি—সবকিছুই আল্লাহর অসীম ক্ষমতা ও প্রজ্ঞার সাক্ষ্য বহন করে। এই মহাবিশ্ব শুধু বসবাসের স্থান নয়, বরং স্রষ্টাকে চেনার ও তাঁর মহত্ত্ব উপলব্ধি করার এক উন্মুক্ত আহ্বান।
সিএ/এমআর


