রমজান মুসলিম উম্মাহর জন্য রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের একটি বিশেষ মৌসুম। কোরআনুল কারিমে আল্লাহ বলেন, হে ঈমানদারগণ! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর, যাতে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারো। (সুরা: আল-বাকারা, আয়াত: ১৮৩)
রমজানের সুফল পেতে আগে থেকেই মানসিক ও আত্মিক প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি। নিজেকে পরিশুদ্ধ করে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করতে হবে।
ইবাদতের অভ্যাস তৈরি করতে পূর্বপ্রস্তুতি দরকার। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ সময়মতো আদায়, সুন্নত ও নফল নামাজের চর্চা, তাহাজ্জুদ এবং নির্দিষ্ট পরিমাণ কোরআন তিলাওয়াত রমজানে ধারাবাহিকতা বজায় রাখে। কোরআনের তিলাওয়াত পরিকল্পনা করে পুরো মাসে একবার খতমের লক্ষ্য স্থাপন করা যায়। (সুরা: আল-বাকারা, আয়াত: ১৮৫)
শারীরিক ও জীবনযাপনের প্রস্তুতি রমজানে প্রয়োজন। ঘুম, খাবার ও কাজের সময়সূচি সামঞ্জস্য রেখে সাহরি ও তারাবি সহজে পালনযোগ্য করতে হবে। স্বাস্থ্যকর জীবনধারা রমজানের ইবাদতে সহায়ক।
অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রস্তুতি গুরুত্বপূর্ণ। জাকাত, সদকা ও ফিতরা আগে থেকেই পরিকল্পনা করা উচিত। পরিবারের সদস্য, আত্মীয়-স্বজন ও অসহায়দের খোঁজ নেওয়া রমজানের বিশেষ আমল।
গুনাহমুক্ত পরিবেশ তৈরি করতে অপ্রয়োজনীয় সামাজিক যোগাযোগ, অশালীন বিনোদন, পরনিন্দা, মিথ্যা ও সময় অপচয় কমানো জরুরি। রোজা শুধুমাত্র খাদ্য-পানীয় থেকে বিরত থাকার নয়, চোখ, কান, জিহ্বা ও হৃদয়কে গুনাহ থেকে সংযত রাখাই প্রকৃত উদ্দেশ্য।
পারিবারিক প্রস্তুতি, সন্তানদের ইবাদত শেখানো, পারিবারিক ইফতার ও দোয়ার আয়োজন রমজানের বরকত বৃদ্ধি করে। রমজানকে জীবনের পরিবর্তনের সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করলে বছরের বাকি সময়েও তাকওয়া ও নৈতিকতা বজায় রাখা সহজ হয়।
সিএ/এমআর


