আজ বিশ্ব ভালোবাসা দিবস।মানুষের আবেগ, সম্পর্ক ও মানসিক বন্ধনের সঙ্গে জড়িত একটি গুরুত্বপূর্ণ হরমোন নিয়ে আবারও আলোচনায় এসেছে বিজ্ঞানসম্মত ব্যাখ্যা। এই হরমোনটির নাম অক্সিটোসিন, যা সাধারণভাবে ‘লাভ হরমোন’ নামে পরিচিত। বিজ্ঞানীরা বলছেন, ভালোবাসা, বিশ্বাস ও সামাজিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে অক্সিটোসিনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
গবেষণায় দেখা গেছে, অক্সিটোসিন শুধু রোমান্টিক অনুভূতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এটি মানুষের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা তৈরি করে, সামাজিক বন্ধন শক্তিশালী করে এবং মানসিক প্রশান্তি আনতে সহায়তা করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই হরমোন মানুষের আচরণ ও আবেগ নিয়ন্ত্রণেও প্রভাব ফেলে।
অক্সিটোসিন মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাসে তৈরি হয়ে পিটুইটারি গ্রন্থির মাধ্যমে রক্তে ছড়িয়ে পড়ে। এন্ডোরফিন বা সেরোটোনিনের মতো এটিও ইতিবাচক অনুভূতির জন্ম দেয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানে অক্সিটোসিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা হলো সন্তান প্রসবের সময় জরায়ুর সংকোচন বাড়ানো এবং প্রসব-পরবর্তী সময়ে মা ও শিশুর মধ্যে নিবিড় বন্ধন তৈরি করা।
নোবেলজয়ী বিজ্ঞানী রজার গুইলেমিনের মতে, অক্সিটোসিন নামকরণ নিয়েও বৈজ্ঞানিক বিতর্ক রয়েছে। গ্রিক শব্দ থেকে এর উৎপত্তি হলেও বানানে ভুল থাকতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন। আবার হরমোনটি প্রথম পৃথক করার সময় বিজ্ঞানী ভিনসেন্ট ডু ভিগনিউড নামকরণ নিয়ে কৌতুক করেছিলেন বলেও জানা যায়।
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, অক্সিটোসিন মানসিক চাপ ও উদ্বেগ কমাতে সহায়ক। শরীরে এ হরমোনের ঘাটতি থাকলে বিষণ্নতা, বিশেষ করে প্রসব-পরবর্তী বিষণ্নতার ঝুঁকি বাড়ে। ব্যায়াম, গান শোনা, দলবদ্ধ কার্যক্রম, প্রিয়জনকে জড়িয়ে ধরা কিংবা পরোপকারমূলক কাজের মাধ্যমে শরীরে অক্সিটোসিনের মাত্রা বাড়তে পারে।
সিএ/এমআর


