মিষ্টি বাঙালির প্রতিদিনের খাদ্য তালিকার অপরিহার্য অংশ। তবে ডায়াবেটিসের সঙ্গে মিষ্টিকে সরাসরি যুক্ত করা সবসময় সঠিক নয়। ডায়াবেটিস মূলত একটি বিপাকজনিত রোগ, যেখানে শরীর পর্যাপ্ত ইনসুলিন তৈরি করতে পারে না বা তৈরি হলেও সঠিকভাবে কাজ করে না। এর পেছনে জেনেটিক কারণ, জীবনযাপন, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব ও ওজনের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি।
গবেষণায় দেখা গেছে, শুধু চিনি বা মিষ্টি খাওয়ার কারণে একা একা ডায়াবেটিস হয় না। টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ক্ষেত্রে মূল সমস্যা হলো ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স। অর্থাৎ শরীরের কোষগুলো ইনসুলিনের নির্দেশ মেনে চলে না। আমেরিকান ডায়াবেটিস অ্যাসোসিয়েশনের মতে, বংশগত ঝুঁকি ও জীবনযাত্রার প্রভাবই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
তবে অতিরিক্ত মিষ্টি ওজন বাড়ায় এবং স্থূলতা টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ায়। মিষ্টি দ্রুত রক্তে শর্করা বাড়ায়, অল্প সময়ে অগ্ন্যাশয়কে বেশি ইনসুলিন তৈরি করতে হয়। দীর্ঘদিন এভাবে চললে ইনসুলিনের ওপর চাপ পড়ে এবং ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স তৈরি হতে পারে।
চিকিৎসকেরা বলেন, পুরো খাদ্যাভ্যাসই গুরুত্বপূর্ণ। শুধু মিষ্টি নয়, ভাজাপোড়া, প্রক্রিয়াজাত খাবার, কম শাকসবজি, কম শারীরিক পরিশ্রম মিলিতভাবে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ায়। সপ্তাহে এক-দুদিন পরিমিতভাবে মিষ্টি খাওয়া বড় সমস্যা নয় যদি জীবনযাপন স্বাস্থ্যকর থাকে।
সিএ/এমআর


