শিশুর জ্বরের সঙ্গে হঠাৎ খিঁচুনি শুরু হলে অধিকাংশ অভিভাবকই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। অনেকেই ধারণা করেন, এটি মস্তিষ্কের গুরুতর কোনো রোগের লক্ষণ। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, ছয় মাস থেকে ছয় বছর বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে জ্বরের সঙ্গে খিঁচুনি হওয়া তুলনামূলকভাবে সাধারণ একটি সমস্যা, যা ‘ফেব্রাইল সিজার’ নামে পরিচিত।
চিকিৎসকরা জানান, সাধারণ ভাইরাস জ্বরের সময় শিশুর শরীরের তাপমাত্রা হঠাৎ বেড়ে গেলে এই ধরনের খিঁচুনি দেখা দিতে পারে। শিশুর মস্তিষ্ক পুরোপুরি পরিণত না হওয়া এবং কিছু জেনেটিক কারণ এর পেছনে ভূমিকা রাখে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই সমস্যা আর থাকে না। তবে অল্প কিছু ক্ষেত্রে এটি পরবর্তী সময়ে মৃগীরোগে রূপ নিতে পারে।
জ্বর ও খিঁচুনির পেছনে আরও কিছু জটিল কারণও থাকতে পারে। মস্তিষ্কে প্রদাহ বা এনকেফালাইটিস হলে রোগী খিঁচুনির পাশাপাশি চেতনা হারাতে পারে। একইভাবে যক্ষ্মা রোগ মস্তিষ্কে ছড়িয়ে পড়লে সিএনএস টিবি দেখা দিতে পারে। আবার দীর্ঘদিনের কানপাকা সংক্রমণ থেকেও মস্তিষ্কে পুঁজ জমে ব্রেইন অ্যাবসেস তৈরি হতে পারে।
চিকিৎসকদের মতে, ফেব্রাইল সিজারের ক্ষেত্রে সাধারণত জটিল পরীক্ষার প্রয়োজন হয় না। রোগীর ইতিহাস শুনেই প্রাথমিকভাবে রোগ নির্ণয় করা সম্ভব। তবে জটিলতা সন্দেহ হলে ইইজি বা এমআরআই পরীক্ষা করা হয়।
শিশুর জ্বরের সঙ্গে খিঁচুনি হলে ভয় না পেয়ে তাকে নিরাপদভাবে বাঁ কাতে শুইয়ে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। মুখে চামচ বা কোনো বস্তু দেওয়া উচিত নয়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে খিঁচুনি নিজে থেকেই থেমে যায়। তবে খিঁচুনি পাঁচ মিনিটের বেশি স্থায়ী হলে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া জরুরি।
সিএ/এমআর


