এক সময় ৫০ বছর বয়সের পর চুলে পাকা ধরা স্বাভাবিক বলে মনে করা হতো। তবে বর্তমান সময়ে পরিবেশ দূষণ, আধুনিক জীবনযাত্রার চাপ ও অনিয়মিত অভ্যাসের কারণে অনেকের মাথায় ২৫ বছরের আগেই সাদা চুল দেখা যাচ্ছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই সমস্যা আরও বাড়ছে, যা নিয়ে দুশ্চিন্তায় ভুগছেন তরুণ-তরুণীরাও। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত এক ফিচারে এই বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জিনগত কারণ ছাড়াও অতিরিক্ত মানসিক চাপ, ভিটামিন বি১২-এর ঘাটতি, হাইপোথাইরয়েডিজম, ভিটিলিগো, ধূমপান, অপুষ্টি, পার্নিসিয়াস অ্যানিমিয়া, পরিবেশ দূষণ এবং চুলের সঠিক যত্ন না নেওয়ার কারণে অকালপক্কতা দেখা দেয়। তবে কিছু ঘরোয়া পদ্ধতি নিয়মিত অনুসরণ করলে এই সমস্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
চুলের যত্নে নারকেল তেলের ব্যবহার বহুল পরিচিত। সমপরিমাণ নারকেল তেল ও লেবুর রস ভালোভাবে মিশিয়ে মাথার ত্বকে লাগিয়ে কয়েক মিনিট ম্যাসাজ করলে চুলের গোড়া মজবুত হয় এবং অকালপক্কতা কমে। নিয়মিত এই পদ্ধতি অনুসরণ করলে চুলের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতাও ফিরে আসে।
পেঁয়াজের রসেও রয়েছে বিশেষ এনজাইম, যা পাকা চুলের সমস্যা কমাতে সাহায্য করে। পরিমাণমতো পেঁয়াজের রস সংগ্রহ করে মাথার ত্বক ও চুলে লাগালে চুল পড়া কমে এবং নতুন চুল গজাতে সহায়তা করে।
হেনা ও মেথির মিশ্রণও অকালপক্কতা রোধে কার্যকর। দুই চামচ হেনা পাউডার, এক চামচ মেথি বীজ ও এক চামচ দই একসঙ্গে মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে নিয়মিত চুলে লাগালে সাদা চুলের সমস্যা কমে। চাইলে নারকেল তেলের সঙ্গে হেনা পাউডার মিশিয়েও ব্যবহার করা যেতে পারে।
এ ছাড়াও খাদ্যাভ্যাসে সবুজ শাকসবজি ও ফলমূল বাড়ানো, মানসিক চাপ ও ধূমপান কমানো, অতিরিক্ত কেমিকেলযুক্ত পণ্য এড়িয়ে চলা এবং প্রতিদিন শ্যাম্পু না করার মতো অভ্যাস গড়ে তুললে চুলের অকালপক্কতা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
সিএ/এমআর


