আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনজন নারী প্রার্থী বয়সে ৭০ পেরিয়েছে। দীর্ঘদিন রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এই তিনজনই উচ্চশিক্ষিত, সম্পদশালী এবং নিজ নিজ এলাকায় রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত। তাঁরা হলেন নরসিংদী-৫ আসনের মেহেরুন নেছা খাঁন হেনা, নোয়াখালী-১ আসনের রেহানা বেগম এবং ময়মনসিংহ-৬ আসনের আখতার সুলতানা।
তিনজনের মধ্যে একজন শিক্ষক, একজন শিক্ষক ও ব্যবসায়ী এবং একজন রাজনৈতিক কর্মী। তাঁদের প্রত্যাশা, এবারের নির্বাচনে ভোটাররা প্রতীক নয়, যোগ্য প্রার্থীকে দেখে ভোট দেবেন।
মেহেরুন নেছা খাঁন হেনা জাতীয় পার্টির প্রার্থী এবং প্রতীক লাঙ্গল। রায়পুরা উপজেলা নিয়ে গঠিত নরসিংদী-৫ আসনে ভোটে দাঁড়িয়েছেন। জন্ম ১৯৫৪ সালের ১৮ জানুয়ারি। নির্বাচনী হলফনামা অনুযায়ী, তিনি ৭২ বছর বয়সী। মেহেরুন নেছার পেশা উল্লেখ রয়েছে গৃহিণী ও রাজনৈতিক কর্মী। বার্ষিক আয় সাড়ে ২৩ লাখ টাকার বেশি। নগদ অর্থ ২৭ লাখ ২৮ হাজার টাকা, ব্যাংকে সাড়ে ৫ লাখ টাকা, সঞ্চয়পত্র ও সেভিংস ডিপোজিটে দুই কোটি টাকার বেশি। তিনি গুলশান এলাকায় নিজের নামে একটি ফ্ল্যাটের মালিক।
মেহেরুন নেছার স্বামী ওয়াজেদ আলী খান পন্নী ছিলেন রাষ্ট্রদূত ও পরবর্তীতে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। ২০০৭ সালে জাতীয় পার্টিতে যুক্ত হন এবং এখন দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা পদে রয়েছেন। ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন পেলেও পরে দলীয় সিদ্ধান্তে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন।
নোয়াখালী-১ আসনের জেএসডি প্রার্থী রেহানা বেগম শিক্ষাগত যোগ্যতা এমএসসি, এমএস। পেশা ব্যবসা, তবে সরকারি চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার পরও শিক্ষকতা করছেন। জন্ম ১৯৫৫ সালের ২০ মে, বয়স নির্বাচনী সময়ে ৭০ বছর ৭ মাস ৯ দিন। স্বামী গোলাম জিলানী চৌধুরী ১৯৭০–এর দশকে জেএসডির রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। রেহানার দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।
রেহানা বেগম বলেন, ‘মানুষের জন্য কিছু করার উদ্দেশ্য নিয়ে এসেছি। ভোটারদের কাছে যাচ্ছি। এখানকার নারীরা অবহেলিত। স্বামী বা পরিবারের পুরুষ সদস্যের কথায় অনেকে ভোট দেন, তবে সরাসরি ভোটাররা যোগ্য নারী প্রার্থীকে পছন্দ করছেন।’
ময়মনসিংহ-৬ (ফুলবাড়িয়া) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী আখতার সুলতানা ফুটবল প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। জন্ম ১৯৪৯ সালের ৭ এপ্রিল, নির্বাচনী সময়ে বয়স ৭৬ বছর ৮ মাস ২২ দিন। পেশা শিক্ষকতা। স্বামী প্রয়াত শামছ উদ্দিন আহমেদ ময়মনসিংহ-৬ আসন থেকে দুবার সংসদ সদস্য ছিলেন। আখতার সুলতানার দুই ছেলে রয়েছে।
তিনি উপজেলা মহিলা দলের সভাপতি ছিলেন। বিএনপি থেকে মনোনয়ন না পাওয়ায় স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। নির্বাচনী হলফনামা অনুযায়ী, তাঁর বার্ষিক আয় সাড়ে ৫ লাখ টাকা, নগদ অর্থ ৫৪ লাখ টাকার বেশি, বন্ড ও শেয়ার ২০ লাখ টাকা। স্থাবর সম্পদ হিসেবে এক একর কৃষিজমি রয়েছে। গয়না ৫ ভরি। এবারের নির্বাচনে ময়মনসিংহ-৬ আসনে মোট পাঁচজন প্রার্থী লড়ছেন।
সিএ/এমই


