ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের ওপর সম্ভাব্য মার্কিন হামলার আশঙ্কা তৈরি হলে দেশটিকে রক্ষায় সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ইরাকের হাজার হাজার নাগরিক। লন্ডনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আইয়ের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ইরাকের দিয়ালা প্রদেশে কয়েক হাজার মানুষ একত্রিত হয়ে একটি অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর করে ঘোষণা দিয়েছে—তারা ইরাক, এর পূর্ব প্রতিবেশী ইরান এবং ইরান–সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে বিনা পারিশ্রমিকে রক্ষা করতে প্রস্তুত।
ঘোষণায় বলা হয়, তারা নিরাপত্তা বাহিনী, পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস (পিএমএফ) এবং ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানকে সমর্থন দিতে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে প্রস্তুতি নিয়েছে এবং ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো হস্তক্ষেপ স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করছে। ওমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা চলছে, তবে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ওয়াশিংটন সম্প্রতি ইরানের তেল রপ্তানি সীমিত করতে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এতে তুরস্ক, ভারত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের পতাকাবাহী ১৪টি জাহাজ, আরও ১৫টি প্রতিষ্ঠান এবং দুই ব্যক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। একই সময়ে মার্কিন বিমানবাহী রণতরিগুলো ইরানের উপকূলের কাছে অবস্থান করছে। সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) আরব সাগরে ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনের রসদ সরবরাহ অভিযানের ভিডিও প্রকাশ করেছে।
ইরানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আকরামিনিয়া বৃহস্পতিবার বলেন, সামরিক বাহিনী যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত এবং ওয়াশিংটন যদি সংঘাত চায়, তবে সেই যুদ্ধ পুরো অঞ্চলজুড়ে এবং সব মার্কিন ঘাঁটিতে ছড়িয়ে পড়বে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও সতর্ক করে বলেছেন, কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো না গেলে ‘বাজে কিছু’ ঘটতে পারে।
দিয়ালা প্রদেশের সমাবেশটির অন্যতম সমন্বয়কারী ও ইরান–সমর্থিত বদর অর্গানাইজেশনের নেতা আম্মার আল-তামিমি জানান, এই স্বেচ্ছাসেবীরা নির্দিষ্ট কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্য নন। তিনি বলেন, তারা নিরাপত্তা বাহিনীর রিজার্ভ ফোর্স হিসেবে কাজ করতে প্রস্তুত। তাঁর দাবি, ৪ হাজার ৯৪৭ জনের নাম সংগৃহীত হয়েছে, যা দিয়ালা অপারেশনস কমান্ডে জমা দেওয়া হবে এবং পরে সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান কমান্ডারের কাছে পাঠানো হবে।
২০০৩ সালে সাদ্দাম হোসেনের পতনের পর থেকেই ইরাক ইরানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছে। একই সঙ্গে দেশটিতে যুক্তরাষ্ট্রও ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করে আসছে। বর্তমানে ইরাকে হাজার হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সশস্ত্র গোষ্ঠী তেহরানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত।
এদিকে ইরান–সমর্থিত ইরাকি গোষ্ঠী, যেমন কাতায়েব হিজবুল্লাহ এবং হারাকাত আল–নুজাবা বাগদাদসহ বিভিন্ন এলাকায় নিয়োগকেন্দ্র খুলেছে, যাতে ইরানে মার্কিন হামলা হলে স্বেচ্ছাসেবীদের তালিকাভুক্ত করা যায়।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই
সিএ/এসএ


