জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অ্যালায়েন্স ফর ইনোভেশন, রাইটস, অ্যাডভোকেসি অ্যান্ড মোবিলাইজেশন (এআইআরএএম) পরিচালিত ‘গ্রন্থপাঠ কর্মসূচি’-এর আওতায় সাপ্তাহিক পাঠচক্র ‘মননসভা’-এর পাঠচক্র ও প্রতিযোগিতা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের অরণ্য পাঠাগারে কর্মসূচিটি অনুষ্ঠিত হয়। একই দিন জাতীয় গ্রন্থাগার দিবস হওয়ায় আয়োজনটি বইপাঠের গুরুত্ব ও পাঠাভ্যাস তৈরির বার্তাকে আরও তাৎপর্যপূর্ণভাবে সামনে নিয়ে আসে।
অনুষ্ঠানে অতিথি ও বিচারক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফোকলোর বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. বাকীবিল্লাহ, নাট্যকলা বিভাগের প্রিন্সিপাল ডেমনস্ট্রেটর আরিফ হাসান এবং কলাম লেখক জেনাস ভৌমিক। উপস্থিত অতিথিরা পাঠচক্রের আলোচনায় অংশ নেন এবং প্রতিযোগিতার মূল্যায়ন করেন। তাঁদের উপস্থিতি আয়োজনটিকে আরও প্রাণবন্ত ও অর্থবহ করে তোলে এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে বইপাঠের প্রতি নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করে।
এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে এআইআরএএম থেকে পাঠচক্রের ১০ জন সদস্যকে মোট ১০টি বই প্রদান করা হয় এবং জানুয়ারির মধ্যে প্রত্যেকে লিখিত বুক রিভিউ জমা দেন। এরপর পাঠচক্রের নিয়ম অনুযায়ী বই পাঠ শেষে আলোচনা ও প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।
অধ্যাপক মো. বাকীবিল্লাহ তাঁর বক্তব্যে বলেন, বই মানুষের ভেতরের মানুষকে জাগিয়ে তোলে এবং পাঠচক্রের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে চিন্তা, ভাষা ও যুক্তিবোধের বিকাশ ঘটে, যা শ্রেণিকক্ষের বাইরেও একটি কার্যকর শিক্ষার পরিসর তৈরি করে। তিনি তরুণদের উদ্দেশে পাঠাভ্যাসকে জীবনের স্থায়ী সম্পদ হিসেবে গ্রহণ করার আহ্বান জানান।
প্রিন্সিপাল ডেমনস্ট্রেটর আরিফ হাসান বলেন, বর্তমান সময়ে মনোযোগ ধরে রাখাই বড় চ্যালেঞ্জ; বইপাঠ ও পাঠচক্র সেই মনোযোগকে ফিরিয়ে আনে এবং ব্যক্তিত্বে শৃঙ্খলা তৈরি করে। তাঁর মতে, যে শিক্ষার্থী নিয়মিত বই পড়ে, সে নিজের মত প্রকাশে আত্মবিশ্বাসী হয় এবং সেই আত্মবিশ্বাসই ভবিষ্যৎ পথচলায় বড় শক্তি হিসেবে কাজ করে। তিনি শিক্ষার্থীদের পাঠচক্রকে কেবল একটি আয়োজন নয়, আত্মগঠনের একটি নিয়মিত অনুশীলন হিসেবে দেখার পরামর্শ দেন।
কলাম লেখক জেনাস ভৌমিক তাঁর বক্তব্যে বলেন, পাঠচক্র হলো একটি সমাজ নির্মাণের কারখানা; এখানে শুধু বই পড়া হয় না, বরং চিন্তার ভিত তৈরি করে একটি প্রজন্ম গড়ে ওঠে। তিনি উল্লেখ করেন, এআইআরএএম-এর মতো সংগঠন যখন তরুণদের হাতে বই তুলে দেয়, তখন তা কেবল একটি উপহার নয়, এটি ভবিষ্যতের জন্য একটি বিনিয়োগ। তাঁর মতে, পাঠচক্রের আলোচনা শিক্ষার্থীদের যুক্তিবোধ, বিশ্লেষণী ক্ষমতা এবং লেখার দক্ষতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
আয়োজকরা জানান, পাঠচক্রভিত্তিক পাঠ ও আলোচনার মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মকে বইপাঠে উৎসাহিত করা, তাদের জ্ঞান, সমালোচনামূলক চিন্তাশক্তি ও প্রকাশক্ষমতা উন্নত করা এবং অফলাইন ও অনলাইন উভয় মাধ্যমে বইপড়া আন্দোলনকে এগিয়ে নেওয়াই ছিল এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য। এ আয়োজনের কো-অর্ডিনেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন শাহ বিলিয়া জুলফিকার। এই আয়োজনের মাধ্যমে পোস্ট-টেস্টের মাধ্যমে পাঠ্যবস্তুর বোধগম্যতা ও বিশ্লেষণী ক্ষমতা মূল্যায়ন, সেরা পাঠক ও আলোচকদের পুরস্কৃত করে মোটিভেশন বৃদ্ধি এবং পাঠচক্র ও এআইআরএএম-এর মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতামূলক সম্পর্ক গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আবু তাহের, নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
সিএ/জেএইচ


