সৌদি আরবে প্রায় ৩০ বছর পর আবারও শীত মৌসুমে পবিত্র রমজান শুরু হতে যাচ্ছে। ফলে দেশটিতে এ বছরের রোজার সময় তুলনামূলকভাবে কম হবে এবং মুসলমানরা দীর্ঘদিন পর অপেক্ষাকৃত আরামদায়ক সময়ে সিয়াম সাধনার সুযোগ পাচ্ছেন।
জ্যোতির্বিদদের হিসাবে জানা গেছে, এ বছর সৌদি আরবে প্রতিদিন গড়ে ১২ থেকে ১৩ ঘণ্টা রোজা রাখতে হবে। দীর্ঘদিন ধরে রমজান গ্রীষ্মকালে পড়ায় সিয়ামের সময় ১৫ থেকে ১৬ ঘণ্টা পর্যন্ত ছিল, যার সঙ্গে যুক্ত ছিল তীব্র গরম। বিশেষ করে বয়স্ক, অসুস্থ এবং খেটে খাওয়া মানুষের জন্য এ দীর্ঘ দিন ও খরতাপ রোজা পালনকে কঠিন করে তুলেছিল।
সৌদি আরবের পরিচিত জ্যোতির্বিদ আবদুল্লাহ আল-মোসনেদ জানান, ১৪৪৭ হিজরির রমজান যেহেতু শীত মৌসুমে শুরু হচ্ছে, তাই দিনের দৈর্ঘ্য স্বাভাবিকভাবেই কম থাকবে। সূর্যোদয় দেরিতে এবং সূর্যাস্ত দ্রুত হওয়ায় রোজার সময় কমে আসবে, যা রোজাদারদের জন্য স্বস্তির হবে।
তিনি আরও বলেন, গত কয়েক দশক রমজান মূলত গ্রীষ্মেই পড়েছিল, আর সেই সময় তীব্র গরমে দীর্ঘক্ষণ রোজা রাখা অনেকের জন্য শারীরিকভাবে কষ্টকর হয়ে উঠত। কিন্তু শীতকালীন রমজান এ পরিস্থিতিকে সম্পূর্ণ পাল্টে দেবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কম সময়ের সিয়াম এবং শীতল আবহাওয়া মুসল্লিদের ইবাদতে একাগ্রতা বাড়াতে সহায়তা করবে। ক্লান্তি কম থাকায় সালাত, বিশেষ করে তারাবি, তাহাজ্জুদ, কিয়ামুললাইল আদায়ে স্বস্তি অনুভূত হবে এবং মসজিদে মুসল্লিদের উপস্থিতিও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
চাঁদের নিয়ম অনুযায়ী প্রতি বছর রমজান প্রায় ১০ থেকে ১১ দিন করে এগিয়ে আসে। সেই ধারায় প্রায় তিন দশক পর আবারও শীত মৌসুমে রমজান ফিরেছে। এটি সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের মুসলমানদের কাছে এক আনন্দদায়ক সংবাদ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সূত্র: ধর্ম ডেস্ক
সিএ/এসএ


