পোশাক মানুষের ব্যক্তিত্ব ও সামাজিক অবস্থানের পরিচয় বহন করে। বিশ্বখ্যাত ফ্যাশন ব্র্যান্ডগুলোর দামি পোশাক সেই ধারণাকেই আরও জোরালোভাবে তুলে ধরে। এসব ব্র্যান্ডের মধ্যেও সবচেয়ে এক্সক্লুসিভ ও ব্যয়বহুল ধারা হলো ওত কত্যুর। সাম্প্রতিক সময়ে বৈশ্বিক ফ্যাশন দুনিয়ায় ওত কত্যুর প্রদর্শনীর পর এই পোশাক ঘিরে আগ্রহ ও আলোচনা নতুন করে বেড়েছে।
ওত কত্যুর বলতে বোঝায় সর্বোচ্চ মানের কাপড়, নিখুঁত নকশা এবং হাতে তৈরি সূক্ষ্ম কারুশিল্প। প্রতিটি পোশাকই তৈরি হয় নির্দিষ্ট একজন ক্রেতার জন্য। দোকানের তাক বা গণ উৎপাদনের জন্য কখনোই ওত কত্যুর বানানো হয় না। গবেষণায় দেখা গেছে, বিশ্বজুড়ে মাত্র চার হাজার মানুষই আর্থিকভাবে ওত কত্যুর কেনার সক্ষমতা রাখেন।
ফ্রান্সের প্যারিসে নির্ধারিত কঠোর নিয়মের আওতায় পরিচালিত হয় ওত কত্যুর হাউসগুলো। প্রতিটি পোশাক তৈরি হয় বিশেষ অ্যাটেলিয়ারে দক্ষ কারিগরের হাতে। একটি ডিজাইন সম্পন্ন করতে লেগে যায় মাসের পর মাস, কখনো হাজার হাজার ঘণ্টা। অনেক ব্র্যান্ড প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে সংরক্ষণ করে আসছে বিশেষ কারুশিল্প কৌশল, যা আজও হাতে গোনা কয়েকজন কারিগর চর্চা করেন।
আইনগতভাবে ওত কত্যুর ফ্রান্সের নিয়মকানুন দ্বারা সুরক্ষিত। প্রতি বছর প্রতিটি কত্যুর হাউসকে নির্দিষ্ট মানদণ্ডে পর্যালোচনার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। বছরে অন্তত দুটি প্রদর্শনী আয়োজন করতে হয় এবং প্রতিটি প্রদর্শনীতে ন্যূনতম ২৫টি পোশাক উপস্থাপন বাধ্যতামূলক।
ওত কত্যুর পোশাকের আরেকটি বিশেষ দিক হলো সীমিত সংখ্যা। একটি নকশায় সাধারণত একটি, বড়জোর তিনটি পোশাক তৈরি হয়। প্রতিটি পোশাকের জন্য আলাদা করে ম্যানিকুইন বানানো হয়, যার মাপ পুরোপুরি ক্রেতার শরীর অনুযায়ী। অনেক ক্ষেত্রে ক্রেতাকে প্যারিসে তিন থেকে পাঁচটি ব্যক্তিগত ফিটিং সেশনে অংশ নিতে হয়।
সংখ্যা বা মুনাফার হিসাব নয়, বরং শিল্পবোধ, উত্তরাধিকার এবং পরিপূর্ণতার গল্প তৈরি করাই ওত কত্যুরের মূল দর্শন। এ কারণেই এটি চূড়ান্ত বিলাসিতার প্রতীক হিসেবে বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত।
সিএ/এমআর


