ইসলামী ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ নারীদের অন্যতম হজরত খাদিজা (রা.)। তিনি ছিলেন বুদ্ধিমতী, সম্মানিত, দানশীলা ও নিবেদিতপ্রাণ। নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রথম স্ত্রী খাদিজা (রা.) জীবদ্দশায় নবীজির একমাত্র সহধর্মিণী ছিলেন। তিনিই প্রথম ইসলাম গ্রহণ করেন এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে বিশেষ সম্মান ও জান্নাতের সুসংবাদ লাভ করেন।
মহানবী (সা.)-এর স্ত্রী হিসেবে খাদিজা (রা.) মুসলিম নারীদের জন্য এক অনন্য আদর্শ। সংসার পরিচালনা থেকে শুরু করে দাম্পত্য জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে তার আচরণ আজও অনুসরণযোগ্য। তার জীবনের চারটি গুণ বিশেষভাবে নারীদের জন্য পথনির্দেশনা দেয়।
প্রথমত, চরিত্রবান জীবনসঙ্গী নির্বাচন। খাদিজা (রা.) ছিলেন মক্কার সম্ভ্রান্ত ও বিত্তশালী নারী। একাধিক বিয়ের প্রস্তাব পেলেও তিনি তা গ্রহণ করেননি। তার লক্ষ্য ছিল নীতিবান ও চরিত্রবান জীবনসঙ্গী পাওয়া। নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চরিত্রে তিনি সেই গুণাবলি দেখতে পেয়েছিলেন।
দ্বিতীয়ত, বিপদের সময় স্বামীর পাশে থাকা। হেরা গুহায় প্রথম ওহি নাজিলের পর আতঙ্কিত নবীজি (সা.) খাদিজা (রা.)-এর কাছেই আশ্রয় নেন। তিনি স্বামীকে সান্ত্বনা দিয়ে বলেছিলেন, আপনি আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করেন, সত্য কথা বলেন, অসহায়দের সাহায্য করেন। আল্লাহ আপনাকে কখনো অপমানিত করবেন না।
তৃতীয়ত, প্রজ্ঞাসম্পন্ন পরামর্শদাতা হওয়া। খাদিজা (রা.) শুধু সান্ত্বনাই দেননি, বরং নবীজিকে ওয়ারাকা ইবন নওফেলের কাছে যাওয়ার পরামর্শ দেন। তার এই বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতের অনেক বিষয়ের দিকনির্দেশনা দেয়।
চতুর্থত, স্বামীর পাশে শক্ত দেয়ালের মতো থাকা। নবী মুহাম্মদ (সা.) নিজেই বলেছেন, যখন সবাই তাকে অবিশ্বাস করেছিল, তখন খাদিজা (রা.) বিশ্বাস রেখেছিলেন। নিজের সব সম্পদ দিয়ে তিনি নবীজিকে সহযোগিতা করেছেন এবং কঠিন সময়েও পাশে থেকেছেন।
খাদিজা (রা.)-এর জীবন নারীদের শেখায়, ভালোবাসা, আস্থা ও ত্যাগের মাধ্যমে কীভাবে একটি আদর্শ দাম্পত্য জীবন গড়ে তোলা যায়। তার এই গুণাবলি আজও মুসলিম সমাজে নারীদের জন্য অনুসরণীয় হয়ে আছে।
সিএ/এমআর


